‘ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে এই খবরটা পেয়েছি…’ বন্ধু নানা পাটেকরের প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন গৌতম ঘোষ!

প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকস্তব্ধ ভারতীয় বিনোদন জগৎ। বৃহস্পতিবার ভোরে এই দুঃখজনক খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই নব্বই দশকের পুরনো স্মৃতিতে ফিরে গিয়েছেন বিশিষ্ট পরিচালক গৌতম ঘোষ। দীর্ঘদিনের এক পুরনো বন্ধু ও সহকর্মীকে হারিয়ে তিনি এতটাই মর্মাহত যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে পরিচালক বলেন, “আমি ভোরবেলা উঠেই খবরটা পেয়েছি… এত মর্মাহত হয়েছি যা ভাবা যায় না। আমার ঠিক কীরকম অবস্থা হচ্ছে, তা প্রকাশ করতে পারব না।”
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া তাঁদের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে নানা পাটেকরের কাজের প্রতি নিষ্ঠার এক অজানা দিক তুলে ধরেন গৌতম ঘোষ। তাঁর পরিচালিত ‘যাত্রা’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। ওই ছবিতে রেখা, দীপ্তি নাভাল, জুন মালিয়া এবং পরিচালকের কন্যা আনন্দীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। নানা প্রসঙ্গে পরিচালক জানান, তাঁকে যে জটিল চরিত্রটি দেওয়া হয়েছিল, তাতে তিনি অসাধারণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন। একজন লেখক এবং তাঁর উপন্যাসের চরিত্র—দুটোই তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এবং তার জন্য বিরাট হোমওয়ার্ক করেছিলেন।
শুটিং সেটের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে পরিচালক জানান, নানা পাটেকর ছিলেন একজন নিখাদ ‘মেথড অ্যাক্টর’। শুটিং চলাকালীন তিনি এতটাই চরিত্রের গভীরে ঢুকে যেতেন যে পারিপার্শ্বিক জগৎ সম্পূর্ণ ভুলে যেতেন। আর ঠিক এই কারণেই শুটিং সেটে হঠাৎ কোনো সাংবাদিক এসে কথা বললে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন, এমনকি বকাঝকাও করে বসতেন। অনেকে তাঁর এই রূঢ় আচরণের জন্য ভুল বুঝলেও গৌতম ঘোষের মতে, “আসলে ও ভীষণ আবেগপ্রবণ ছিল এবং চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকতে ভালোবাসত। আমিও সেটাই চেয়েছিলাম। ও অসাধারণ অভিনয় করেছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
মারাঠি এবং বাঙালিদের সংস্কৃতির মধ্যে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পেতেন এই দুই গুণী মানুষ। পরিচালকের কথায়, আড্ডা দেওয়া, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে তর্ক করা—দুটো সমাজের ইমোশন প্রায় একই রকম। এত বড় মাপের তারকা হওয়া সত্ত্বেও মুম্বইয়ে নানা পাটেকরের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্তের মতো। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নীরবে বহু মানুষকে সাহায্য করতেন তিনি। বিভিন্ন এনজিও, ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং নর্মদা আন্দোলনের মতো জনহিতকর কাজেও তিনি নিয়মিত সাহায্য করেছেন, যা অনেকেই হয়তো জানেন না।
রামোজি ফিল্ম সিটি থেকে কলকাতার বিভিন্ন অলিগলিতে একসঙ্গে কাজ করার অজস্র স্মৃতি আজ পরিচালকের মনে ভিড় করে আসছে। কিছুটা আক্ষেপের সুরেই গৌতম ঘোষ জানান, “আরেকটা ছবি করার তো প্ল্যানই করেছিলাম… তা আর হয়ে ওঠেনি। এটা একটা বড় আক্ষেপ রয়ে গেল।” প্রিয় বন্ধুকে শেষ বিদায় জানিয়ে তাঁর ভারী গলার সংযোজন, “আমরা সত্যি একজন খুব বড় অভিনেতা এবং অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং ব্যক্তিত্বকে হারালাম।”