রাতভর ১১ ঘণ্টা থানায় আটকে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর! বেরিয়েই বোমা ফাটালেন, রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড়

এক নজিরবিহীন ও টানটান নাটকীয় রাজনৈতিক ড্রামার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। প্রায় ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে থানা থেকে বাইরে এলেন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বিতর্কিত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তবে থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই সম্পূর্ণ অচেনা সুর ও বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুললেন তিনি।

“আমার কাছে ফোনই ছিল না!” বিস্ফোরক বিধায়ক
দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে থাকার পর থানা থেকে বেরিয়েই বিধায়ক হুমায়ুন কবির দাবি করেন যে, তাঁর কাছে কোনো মোবাইল ফোনই ছিল না। ফলে বাইরে কিংবা তাঁর কেন্দ্রে নির্বাচন সংক্রান্ত ঠিক কী ঘটেছে, কীভাবে বা কী পরিস্থিতিতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি বিন্দুমাত্র কিছুই জানেন না।

হুমায়ুন কবিরের এই আকস্মিক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে। একজন হেভিওয়েট বিধায়ক ভোটের দিন দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা থানায় আটকে থাকার পর এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কী ঘটেছিল ঠিক সেদিন?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভোটের দিন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও অশান্তির আশঙ্কায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা তাঁকে থানার ভেতরেই রাখা হয়। বাইরে যখন ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, তখন ভেতরের সব খবর থেকেই নাকি বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল বিধায়ককে—এমনটাই দাবি তাঁর অনুগামীদের।

থানা থেকে মুক্ত হওয়ার পর হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীরাও সোচ্চার হতে শুরু করেছেন। শাসকদল ও প্রশাসনের এই অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং ভোটের দিন বিধায়ককে দীর্ঘক্ষণ থানায় আটকে রাখার আসল কারণ কী, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে সব রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *