পুজোর আগেই চরম আর্থিক সংকট! ৪৪০ কোটির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, হাইকোর্টে বড় ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসের

শারদোৎসবের ঠিক মুখে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন আইনি ও আর্থিক সংকটে জড়িয়ে পড়ল ‘মমতা তৃণমূল’ বা কালীঘাট নেতৃত্ব। ৪৪০ কোটি টাকার বিপুল তহবিল থাকা সত্ত্বেও আদালতের নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসার টাকা ছাড়তে অস্বীকার করায় চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের স্থায়ী কর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানো থেকে শুরু করে অফিসের বাড়িভাড়া—পুজোর মুখে কোনো খরচই মেটাতে পারছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব।

কেন থমকে গেল তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা?
পুলিশের একটি মারাত্মক অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা স্থগিত করা হয়েছিল। এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা।

ঘটনাটি গড়ালে গত ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই বিষয়ে ‘স্পেশ্যাল অফিসার’ (Special Officer) হিসেবে নিযুক্ত করেন। আদালত নির্দেশ দেয় যে, আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ, অফিস খরচ ও কর্মীদের বেতন কেবল মাত্র স্পেশ্যাল অফিসারের অনুমোদনের মাধ্যমেই ছাড়া হবে।

কমিশন ও স্পেশ্যাল অফিসারের প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব
এদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং তাদের দলীয় ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspend) করেছে। সূত্রের খবর, আদালতের স্পেশ্যাল অফিসার তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের এই প্রতীক ও নাম সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কি কেবল উপনির্বাচন কেন্দ্রিক, নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য? যতক্ষণ না এই প্রশ্নের সঠিক আইনি জবাব মিলছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুজোর বোনাস ও দৈনন্দিন খরচ মেটানোর তহবিল মুক্ত করতে সাফ অস্বীকার করেছেন স্পেশ্যাল অফিসার।

হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ, খোলার অপেক্ষা
জরুরি ভিত্তিতে পুজোর আগে দলীয় তহবিল ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অবিলম্বে শুনানির আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, দুর্গাপুজোর ছুটির পর স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কোর্ট খুললেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের শুনানিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছিল যে, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ মাত্র। তা সত্ত্বেও আইনি জটিলতার কারণে স্পেশ্যাল অফিসার টাকা রিলিজ না করায় পুজোর মুখে কার্যত খালি হাতেই লড়াই চালাতে হচ্ছে তৃণমূলকে। পুজোর সময় রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং কর্মীদের বেতন দেওয়া এখন কালীঘাট নেতৃত্বের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ছুটির পর আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *