“আচ্ছে দিন নয়, পকেট কাটার দিন!” চার বছর পর আরবিআই-এর রেপো রেট বাড়তেই মোদীকে তোপ কংগ্রেসের

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়ে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির জন্য রেপো রেট (Repo Rate) ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)। রিজার্ভ ব্যাংকের এই বড়সড় পদক্ষেপের পরপরই কেন্দ্রীয় মোদী সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে তীব্র আক্রমণ শানাল দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে কংগ্রেস দাবি করে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজত্বে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর অর্থনৈতিক অত্যাচারের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

“আচ্ছে দিন নয়, পকেট কাটার দিন!”
সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে কংগ্রেসের তরফে বক্তব্য রাখা হয়, “ইনফ্লেশন ম্যান মোদীর জমানায় মধ্যবিত্তের কোমর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুদের হার বাড়ার সরাসরি অর্থ হলো সাধারণ মানুষের হোম লোন, কার লোন, পার্সোনাল লোন এবং বিজনেস লোনের ইএমআই (EMI) অনেকটাই বেড়ে যাওয়া। সাধারণ মানুষকে আচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে যা মিলল তা হলো পকেট কাটার দিন।”

কংগ্রেসের মূল অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন লোনগ্রহীতাদের প্রতি মাসে অতিরিক্ত কিস্তির টাকা পকেট থেকে গুনতে হবে, অন্যদিকে তাঁদের ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও (Loan Tenure) অনেকটাই দীর্ঘায়িত হবে।

সুদের হার বাড়ানোর পেছনে রিজার্ভ ব্যাংকের যুক্তি
রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এক বিবৃতি দিয়ে জানান যে, খুচরা মূল্যস্ফীতির চিত্রটি গত বছরের মতো আর স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নেই। অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিনটি ত্রৈমাসিকে খুচরা মূল্যস্ফীতি গড় ৫.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং পুরো অর্থবর্ষে তা ৪.৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম ভারতের মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলিতে বন্ডের রিটার্ন বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের শক্তিবৃদ্ধি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারগুলি চরম চাপের মুখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এমন কঠোর ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

রেপো রেটের ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষিত
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বাড়িয়ে ৬.৫০ শতাংশ করেছিল আরবিআই। তারপর দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। ২০২৫ সালে এসে দেশের বাজারকে চাঙা করতে পরপর চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছিল আরবিআই।

তবে ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক গতিপথ আবার উল্টো ঘুরতেই সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে বাধ্য হলো রিজার্ভ ব্যাংক। একদিকে সামনেই উৎসবের মরশুম, আর অন্যদিকে ইএমআই ও সুদের হার বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে লোনগ্রহীতাদের পকেটে টান পড়ার এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন পারদ চড়ছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *