৮ লাখ কর্মীর মাথায় হাত! বকেয়া ডিএ পাওয়ার তালিকা থেকে কি বাদ শিক্ষকেরা? চরম বিভ্রান্তি নবান্নের নির্দেশে

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রায় ১১ বছরের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হতেই তৈরি হয়েছে তীব্র নতুন বিতর্ক ও গভীর অনিশ্চয়তা। নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের পাওনা মেটানোর স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও, বাদ পড়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে পুরসভা, পঞ্চায়েত, বোর্ড-কর্পোরেশন এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীসহ প্রায় ৮ লাখ অনুদানপ্রাপ্ত (Grant-in-Aid) কর্মচারীর।ফলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মীদের মুখে স্বস্তির হাসি, অন্যদিকে শিক্ষক ও পঞ্চায়েত-পুর কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ ও জল্পনা। কেন বাদ পড়ার আশঙ্কায় ৮ লাখ কর্মী?রাজ্য অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এবং ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব কষে বকেয়া মেটানো হবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় শুধু সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের (State Government Employees) কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের একটি অংশের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের মামলাটি মূলত সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার কেন্দ্রিক ছিল। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই আপাতত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফলে Grant-in-Aid প্রাপ্ত প্রায় আট লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগীরা এই ধাপে সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি। আদালতের হিসেব বনাম সুপ্রিম কোর্টের ‘Employee of the State’ নবান্নের এই কৌশলী পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চসহ একাধিক সরকারি কর্মী সংগঠন। তাদের স্পষ্ট দাবি, ডিএ মামলা চলাকালীন রাজ্য সরকারই সুপ্রিম কোর্টের কাছে বকেয়া অর্থের একটি যৌথ পরিসংখ্যান জমা দিয়েছিল।সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী: সরাসরি সরকারি কর্মীদের জন্য প্রয়োজন: প্রায় ১১,৭৯০ কোটি টাকা।Grant-in-Aid (শিক্ষক, পুরকর্মী ইত্যাদি) কর্মীদের জন্য প্রয়োজন: প্রায় ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা। পেনশনভোগীদের জন্য প্রয়োজন: প্রায় ১১,৬১১ কোটি টাকা।কর্মী সংগঠনগুলির যুক্তি, সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে ‘Employee of the State’ বা ‘রাজ্যের কর্মচারী’ শব্দটি ব্যবহার করেছিল। তাই কোনো প্রশাসনিক অজুহাতে অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষক বা পুরসভা-পঞ্চায়েতের কর্মীদের আলাদা করে বাদ দেওয়া পুরোপুরি বেআইনি।কীভাবে দেওয়া হবে গচ্ছিত টাকা?নবান্নের নতুন নীতি অনুযায়ী, সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া টাকা তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে:১. Group-A, B এবং C কর্মীদের ক্ষেত্রে: বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি জমা হবে তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা GPF অ্যাকাউন্টে।২. Group-D কর্মীদের ক্ষেত্রে: টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে জিপিএফে জমা হওয়া টাকা ২০২৮ সালের ৩১ মার্চের আগে সাধারণ নিয়মে তোলা যাবে না। কেবল অবসর, মৃত্যু কিংবা ইস্তফার মতো বিশেষ ও জরুরি ক্ষেত্রেই টাকা তোলার বিশেষ ছাড় মিলবে।ফের কি নতুন আইনি জটিলতা?সরাসরি সরকারি কর্মীদের পাওনা মেটানোর প্রস্তুতি শুরু হলেও, রাজ্যের বিশাল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পাওনা নিয়ে সরকারের এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আবারও আদালতের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। রাজ্য সরকার অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়ে আলাদা কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করে কি না, নাকি আবার নতুন করে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ে বকেয়া ডিএ-র ভাগ্য, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।