“এবার কি মুসলিম পাইলট দেখেই ভয় পাব?” ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য তসলিমা নাসরিনের!

আকাশে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক অনন্য সাহসিকতার নজির গড়লেন ভারতীয় পাইলট। ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) একটি বিমানের ককপিটের ভেতরে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনা। বিমানের সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় রক্ষা পেয়েছে শত শত যাত্রীর জীবন। আর এই চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক ঘটনার মাঝেই বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

আসলে ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে?
জানা গিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটে বসা অবস্থায় ওমানের নাগরিক তথা সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি হঠাৎই ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালান। আচমকা এই আক্রমণে বিমানের নিয়ন্ত্রণও কয়েক মুহূর্তের জন্য হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু চরম বিপদের মুখেও হাল ছাড়েননি স্মিত। গুরুতর আহত এবং রক্তস্নাত অবস্থায় কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন তিনি।

ক্যাপ্টেনের চিৎকার শুনে তৎক্ষণাৎ ককপিটে ছুটে আসেন অন্যান্য ক্রু সদস্য ও কিছু সচেতন যাত্রী। এরপর সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রক্তপিপাসু সেই হামলাকারী সহকারী পাইলটকে মাটিতে ফেলে কাবু করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিমানে উপস্থিত অন্যান্য পাইলটরা ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন এবং বিমানটির জরুরি গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। ক্যাপ্টেন স্মিতের এই অসামান্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি এখন গোটা দেশের মানুষের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা।

তসলিমা নাসরিনের বিতর্কিত পোস্ট ও শোরগোল
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাংশ এই ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় জড়াতে শুরু করে। আর সেই ট্রেন্ডেই গলা মেলাতে দেখা যায় কলকাতার দীর্ঘদিনের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তসলিমা লেখেন, ‘এখন তো পাইলট মুসলমান হলে সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে…’! তাঁর এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে নিমেষেই শুরু হয়ে যায় তীব্র বিতর্ক। এক অনুরাগী মন্তব্য করেন, ‘বিমানে ওঠার আগে পাইলটের ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে নেওয়া উচিত।’ আরেকজন লেখেন, ‘অবিশ্বাসের ছায়া নিজেরাই ছড়াচ্ছে’। তৃতীয় এক ব্যক্তির দাবি, “যারা মনে করে বিধর্মীদের হত্যা করতে পারলে জান্নাত কনফার্ম, তারা জান্নাতের লোভে যেকোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তাই ভয় লাগাটা স্বাভাবিক।”

কটাক্ষ ও সমালোচনার ঝড়
যদিও তসলিমার এই মন্তব্য ভালোভাবে নেননি সচেতন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁর মতো একজন পরিচিত ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এমন সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পোস্ট অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে কটাক্ষ করেন অনেকে। এক নেটিজেন লেখেন, “এ কি! এভাবে আপনি কথা বলতে পারেন না। আপনি প্রকাশ্যে ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছেন।” আবার অন্য একজন কটাক্ষের সুরে লেখেন, “ভারত সরকারকে বলুন আপনাকে একটা প্রাইভেট জেট এবং পার্সোনাল হিন্দু পাইলট দিয়ে দিতে।”

প্রসঙ্গত, বহু বছর ধরে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আছেন তসলিমা নাসরিন। ১৯৯৩ সালে তাঁর আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’ এবং পরবর্তীতে ‘দ্বিখণ্ডিত’ বই প্রকাশের পর তীব্র মৌলবাদী বিরোধিতার মুখে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে পা রাখতে না পারলেও সম্প্রতি ২০২৬ সালে কলকাতায় ফিরে ফের একবার সোশাল মিডিয়ায় নিজের তীক্ষ্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন এই লেখিকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *