কৃষ্ণ সাগরে ভয়াবহ রুশ ড্রোন হামলা! তুরস্কের জাহাজে নিহত ২, ভারতীয়দের কী অবস্থা?

কৃষ্ণ সাগরে তুরস্কের একটি অসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক-সহ বেশ কয়েকজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন বলে সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোমানিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস প্রথমে বাণিজ্যিক জাহাজের আহত সদস্যদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিক থাকার কথা জানালেও, পরবর্তীতে সংশোধন করে জানায় যে ভারতীয়দের মধ্যে একজন আহত হয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া ও উদ্ধারকাজ
রোমানিয়ায় ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে জানানো হয়, “আমরা আজ কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি রয়াদ মামাদভ’-এর উপর একটি ড্রোন হামলার ঘটনা জানতে পেরেছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এতে দু’জন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং জাহাজের কয়েকজন সদস্য আহত হয়ে রোমানিয়ায় চিকিৎসাধীন। ক্রু মেম্বারদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।”
ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে দূতাবাস স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ঘটনার পর রোমানিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র নিজে হাসপাতালে গিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।
রাষ্ট্রদূত মনোজ আইএফএস কনস্টান্টা কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসকের সঙ্গেও আলোচনা করেন। চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে তিনজন ভারতীয়ই সুস্থ আছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ভারতীয় নাগরিকের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তবে হামলায় যে দুই বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিচয় বা কোন দেশের নাগরিক তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ জলসীমান্তে তুরস্কের মালিকানাধীন ও ভুট্টা বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোন দিয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা কর্মরত ছিলেন।
জেলেনস্কির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় জাহাজের ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন এবং আরও এক ব্যক্তির ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। তিনি অভিযোগ করেছেন যে রাশিয়া স্বাভাবিক সামুদ্রিক যাতায়াত নিশ্চিত করার পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে সন্ত্রাস ও অসামরিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে এবং এই আগ্রাসন রুখতে আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো চাপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।