যন্তর মন্তরে দলিত যুবককে মারধর কাণ্ড! জামিন পেলেন বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ

দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এক দলিত ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ (Swatantra Bhardwaj) অবশেষে স্বস্তি পেলেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের সমস্ত নিয়ম ও শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার কারণে মঙ্গলবার নতুন দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট তাঁর নিয়মিত জামিন (Regular Bail) মঞ্জুর করেছে। বিশেষ বিচারক (এসসি/এসটি আইন) এস.পি.এস. লালড় এই রায় ঘোষণা করেন।
তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন থেকে নিয়মিত জামিন
গত ২৩ জুন যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন সঞ্জয় আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে। আদালতের নথিতে ওই ব্যক্তিকে দলিত সম্প্রদায়ের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাটিয়ালা হাউস কোর্ট ভরদ্বাজকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছিল।
তবে সেই জামিনের সঙ্গে বেশ কিছু কড়া শর্তও জুড়ে দিয়েছিল আদালত। মামলাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা গণমাধ্যমে কোনো ধরনের পোস্ট, মন্তব্য, ভিডিও, পডকাস্ট বা সাক্ষাৎকার দিতে তাঁকে কঠোরভাবে বারণ করা হয়েছিল। এমনকি অভিযোগকারী, তাঁর নাবালিকা মেয়ে, পরিবারের সদস্য এবং মামলার সাক্ষীদের সঙ্গেও সরাসরি বা ফোনে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছিল।
শর্ত ভঙ্গের কোনো প্রমাণ মেলেনি
আদালত অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার সময় জানিয়েছিল যে, ওই তিন সপ্তাহে ভরদ্বাজের সামগ্রিক আচরণ খতিয়ে দেখার পরই তাঁর নিয়মিত জামিনের আবেদন বিবেচনা করা হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ আদালতে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয়, যার মধ্যে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মঙ্গলবার আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী জামিনের সময় আদালতের নির্দিষ্ট করা কোনো শর্তই অভিযুক্ত ভঙ্গ করেছেন, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পুলিশের রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। এরপরই তাঁর নিয়মিত জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে জামিনের বিস্তারিত ও চূড়ান্ত শর্তাবলি কী হবে, সে বিষয়ে আদালত পরে নির্দেশ দেবে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও আদালতের আগের পর্যবেক্ষণ
এর আগে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার সময় মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। একটি পডকাস্টকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই রেকর্ডিংয়ের মূল ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না এবং ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছিল।
পাশাপাশি যন্তর মন্তরের সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশের ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি, অভিযুক্তের কল ডিটেল ও লোকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত তথ্য এবং ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষীদের বয়ান সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে পেনড্রাইভ, পডকাস্ট ও ভিডিওগুলি সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL)-এ পরীক্ষার নির্দেশও দিয়েছিল আদালত।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, অভিযোগকারী ও তাঁর নাবালিকা মেয়ের সুরক্ষার বিষয়টি যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই অভিযুক্তের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিকটিও বিচার্য। আদালতের মূল পর্যবেক্ষণ ছিল, ঘটনার আসল সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে, কোনো সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রায়ালের মাধ্যমে নয়।