“ভোটার লিস্ট নিয়ে বড় জালিয়াতি!” নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে ধুন্ধুমার, তোপ জয়া বচ্চনের

ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR)-এর প্রতিবাদে আজ, ৬ অক্টোবর উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরার নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদরা সংসদ ভবন থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) নয়াদিল্লির সদর দফতর অভিমুখে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে সোচ্চার হয়ে এই মিছিলেই যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদরা। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সময় নীতী আয়োগ কার্যালয়ের কাছে তুমুল ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ জয়া বচ্চনের
এই প্রতিবাদ মিছিলে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন একটি বিশেষ প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন, যেখানে লেখা ছিল— “নির্বাচন কমিশন বৈষম্য করছে, পিডিএ-র ভোট কাটছে।” মিছিলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন জয়া। বিজেপির সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অভিযোগ করাই বিজেপির কাজ। ওরা ক্ষমতায় আছে, তাই ওরা সেটাই করবে… আমরা আমাদের কাজ করছি। আমাদের দলের নেতৃত্ব যে নির্দেশ দেবে, আমরা সেই অনুযায়ীই লড়াই চালিয়ে যাব।”

এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি যখন কটাক্ষ করে যে, ‘জ্ঞানেশ কুমার নয়, গণেশই সাহায্য করেছিলেন’, তখন তার অত্যন্ত কড়া জবাব দেন জয়া বচ্চন। তিনি বলেন, “গণেশ খারাপ কাজে সাহায্য করেন না। আমি শুধু এটুকু বলেছি, আমরা যখন কোনো শুভ কাজ শুরু করি, তখন প্রথমেই গণেশের কাছেই প্রার্থনা করি। এখন আমরা এই আন্দোলনের সূচনাও তাঁর মাধ্যমেই করেছি। ভগবান গণেশই আমাদের সাহায্য করবেন এবং রক্ষা করবেন।”

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে ব্যারিকেড ভাঙার লড়াই
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরার উপস্থিতি এই আন্দোলনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলের সাংসদরা যখন নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন নীতী আয়োগ কার্যালয়ের কাছে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে এসপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা ব্যারিকেড টপকে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

পাল্টা আক্রমণ বিজেপির
বিরোধীদের এই নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসক দল বিজেপি। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ সম্বিত পাত্র তোপ দেগে বলেছেন, “ভারতীয় সেনা, সুপ্রিম কোর্ট, এইচএএল (HAL) থেকে শুরু করে সনাতন হিন্দু সমাজ এবং ইভিএম (EVM)—সময়ে সময়ে সবকিছুর ওপরই আক্রমণ চালানো হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ও মাস ধরে নির্বাচন কমিশনকেও একইভাবে নিশানা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বিশ্বাস করি যে, দেশে এক অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে কংগ্রেস সচেতনভাবে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।”

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধী জোটের এই সরাসরি সংঘাত আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় কোনো মোড় নিতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *