পুজোর আগে কি পাকাপাকিভাবে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা? আবহাওয়া দফতরের নতুন ঘোষণায় বড় স্বস্তি

আসছে পুজো। কিন্তু মনে একটাই প্রশ্ন, বৃষ্টি থামবে কবে? কবে পাকাপাকি ভাবে এই বছরের মতো বর্ষা বিদায় নেবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে? এই নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। তবে এর মাঝেই আবহাওয়া দফতর সূত্রে একটি স্বস্তির বার্তা শোনা গিয়েছে।সাধারণত ক্যালেন্ডারের পাতায় শ্রাবণ শেষ হলেও প্রতি বছর ১০ অক্টোবর নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নেয়। এই বছরেও তার খুব একটা ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলা থেকে বিদায় নেওয়ার একেবারেই দোরগোড়ায়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে বিদায় নিতে পারে বর্ষা।কোথায় কেমন বৃষ্টি? সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলতে পারে। তবে পাকাপাকিভাবে বর্ষা বিদায় নেওয়ার পথ প্রশস্ত হচ্ছে পুজোর ঠিক আগেভাগেই। পুজোর কদিন আকাশ পরিষ্কার থাকবে নাকি কোনো নিম্নচাপ ভোগাবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট পূর্বাভাস জানায়নি হাওয়া অফিস। রবির বেলার তথ্য অনুযায়ী, সিকিম সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পূর্ব বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে যেমন আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।দেশজুড়ে বর্ষা বিদায়ের ছবি ও বৃষ্টির ঘাটতিদেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে অক্টোবরের শুরুতেই বর্ষার ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে মৌসুমি বায়ু সরে গেছে। আর মাত্র দিন দশেকের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বর্ষা বিদায়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।পুজোর মুখে বর্ষা বিদায়ের খবরটি আনন্দের হলেও, এই বছরের বর্ষা শেষ হচ্ছে বেশ কিছুটা ঘাটতি নিয়েই। সুপার এল-নিনোর প্রভাবে কম বৃষ্টি বা খরার আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। সেই পূর্বাভাস মতোই, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১২.৩ থেকে ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে। আবহবিদদের মতে, মূলত এল নিনো পরিস্থিতি এবং দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির অসম বণ্টনই এই সামগ্রিক ঘাটতির মূল কারণ। এবারের মরশুমে দেশের সব অঞ্চলে সমান বৃষ্টি হয়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ২৮ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকেছিল। এছাড়া মেঘালয়, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটকের মতো রাজ্যে মরশুম শেষে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল প্রায় ২২ থেকে ৫৮ শতাংশের কাছাকাছি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *