‘মিথ্যার রাজনীতি আর মানুষ চাইছে না!’ নির্বাচন সদন অভিযান ও বিরোধীদের তোপ দাগার মাঝে দিলীপ ঘোষের কড়া আক্রমণ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবিতে আজ নির্বাচন সদন অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। এই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে সুর চড়ালেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, সাধারণ মানুষ বিরোধীদের এই “মিথ্যা, প্রতারণা এবং দুর্নীতির” রাজনীতি আর বরদাস্ত করছে না।
দিলীপ ঘোষের নিশানায় বিরোধী জোট ও আপ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গে আম আদমি পার্টি (আপ)-এর তুলনা টেনে বলেন, দলগুলির জন্মপ্রকৃতি প্রায় একই রকম ছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা এখন রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইন্ডিয়া জোট থেকে একে একে অনেকেই সরে যাচ্ছেন। বিরোধীরা যে ধরনের নোংরা রাজনীতি করছে, তা দেশের মানুষ পছন্দ করছেন না। এদের রাজনীতিতে শুধু মিথ্যা, দুর্নীতি আর ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষ এখন চায় উন্নয়ন, শান্তি এবং দেশের অদম্য অগ্রগতি।”
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের প্রতিটি মানুষ নিজেদের জীবনে এক স্পষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করছেন। বিরোধীদের এই আন্দোলন ও নাটককে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “ওরা নিজেদের মতো নাটক চালিয়ে যাক, তাতে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিন্দুমাত্র কোনো প্রভাব পড়বে না।”
নির্বাচন সদন অভিযান ও বিরোধীদের রণকৌশল
এদিকে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করার কথা রয়েছে বিরোধী দলগুলির সাংসদ ও নেতাদের। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টায় মকর দ্বারে সমস্ত বিরোধী সাংসদরা জড়ো হয়ে এই মিছিলে অংশ নেবেন। এছাড়া আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমস্ত দল জেলা স্তরে পদযাত্রা, বিক্ষোভ ও জনসভা করবে। তবে এই মিছিলে আম আদমি পার্টি সরাসরি অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং।
রাহুল গান্ধী ও কে সি বেণুগোপালের তীব্র আক্রমণ
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে রাহুল গান্ধী এক্স (X) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এটা এখন স্পষ্ট যে জ্ঞানেশ কুমার বেআইনিভাবে এবং একতরফাভাবে ৬ নম্বর ফর্ম পরিবর্তন করেছেন। বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য তিনি পদের অপব্যবহার করছেন।” অন্যদিকে, এক সাংবাদিক বৈঠকে কে সি বেণুগোপাল নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন একপ্রকার ‘চিটিং কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” আগামী ১০ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে “ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও” কর্মসূচির ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো এবং গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই আক্রমণাত্মক প্রচার ও লড়াই থামবে না।