জন্মদিনের রাতে উল্কার বেগে ছুটে চলা চারচাকা গাড়ির মর্মান্তিক পরিণতি! কালভার্টে ধাক্কা লেগে মৃত্যু ৩ বন্ধুর

জন্মদিনের আনন্দ নিমেষে বিষাদে বদলানোর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল ছত্তীসগঢ়ের রাজনন্দগাঁও (Rajnandgaon) জেলায়। জন্মদিনের সেলিব্রেশন সেরে গভীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ডিনার করতে বেরিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কালভার্টে সজোরে ধাক্কা মারে চারচাকা গাড়িটি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই যুবকের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মৃত যুবকদের নাম অভিষেক সিং (৩৫), তোশান তিওয়ারি (২৬) এবং প্রশান্ত দাসে (৩৬)। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অভিষেক সিং, যিনি ছত্তীসগঢ় সরকারের বৈদ্যুতিক ও পূর্ত বিভাগের একজন ঠিকাদার ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সকালেই অভিষেক পরিবারের সঙ্গে ঘটা করে নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। এরপর গভীর রাতে, প্রায় রাত দেড়টা নাগাদ, দুর্গ থেকে রাজনন্দগাঁওয়ের দিকে একটি ধাবায় রাতের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েকজন বন্ধু মিলে গাড়ি নিয়ে বের হন তাঁরা।

রাজনন্দগাঁও জেলার তেড়েসারা বস্তির কাছে একটি নালার ওপর থাকা কালভার্টে পৌঁছতেই গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন চালক। গাড়িটি সজোরে গিয়ে ধাক্কা মারে কালভার্টের দেওয়ালে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ও তীব্র ছিল যে চারচাকা গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও হতাহতের খবর
সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই অভিষেক সিং ও তোশান তিওয়ারির মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা অপর তিন বন্ধু—প্রশান্ত দাস, সূরয পাণ্ডে এবং চিন্টু গুরুতর জখম হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রশান্ত দাসেরও মৃত্যু হয়। বাকি দুই আহত যুবক সূরয ও চিন্টু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর রাতে ফাঁকা রাস্তায় গাড়িটির অতিরিক্ত গতিই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। একটি জন্মদিনের রাত কীভাবে কয়েকটি পরিবারের কাছে চিরকালের মতো অন্ধকার হয়ে উঠতে পারে, এই দুর্ঘটনা তারই এক মর্মান্তিক নজির হয়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *