‘আমার এমন ভাইঝি আছে জানা ছিল না!’ মহুয়ার ‘কাকু’ সম্বোধনের পরই বিস্ফোরক জবাব শুভেন্দুর মুখ্য পরামর্শদাতার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞার এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এবার রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যার জেরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি।
মহুয়ার তোপ ও ‘কাকু’ সম্বোধন
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মন্তব্যকে সমর্থন করে গত রবিবার এক্স (Twitter) হ্যান্ডেলে পোস্ট করার পর, সোমবার ফের আক্রমণ শানান মহুয়া মৈত্র। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের ছবি দিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “বাংলায় এসআইআর-এর দুই সবচেয়ে বড় রূপকার সমস্ত ধরনের বেআইনি কাজ করেছেন। সুব্রত কাকু ও মনোজ আঙ্কেল—সাবধান হোন! ভারত এবার আপনাদের দিকেই আসছে। কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না।”
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন সুব্রত গুপ্ত এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন মনোজ আগরওয়াল। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার অভিযোগে যখন মমতা শিবির সরব, ঠিক সেই আবহেই মহুয়ার এই আক্রমণ বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
সুব্রত গুপ্তের শ্লেষাত্মক ও কড়া জবাব
মহুয়া মৈত্রের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ‘কাকু’ সম্বোধনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত। TV9 বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শ্লেষের সুরে বলেন, “আমার এমন ভাইঝি আছে জানা ছিল না। আমি জানতামই না আমার কোনও ভাইঝি রয়েছে। উনি আমার সঙ্গে এমন আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করায় ওনাকে ধন্যবাদ।”
পাশাপাশি, মহুয়াকে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হিসাবে তাঁর এটুকু মাথায় রাখা উচিত ছিল যে, বিগত তিন-চার দশকের মধ্যে এই প্রথম বাংলায় একটি রক্তপাতহীন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সুব্রত গুপ্তের স্পষ্ট বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং কলকাতা হাইকোর্টের সুপারভিশনে হয়েছিল। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কোনো নির্দিষ্ট আধিকারিকের নাম ধরে এই ধরনের আক্রমণ করা কখনোই ভালো রুচির পরিচায়ক নয়। সবমিলিয়ে, মহুয়া মৈত্রের আক্রমণ এবং সুব্রত গুপ্তের এই পালটা মন্তব্যে এখন উত্তাল বাংলার রাজনৈতিক মহল।