“আমাদের গ্রেপ্তার বা খুন করতে পারেন, কিন্তু থামাতে পারবেন না!” শাসকদলকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিস্ফোরক সিজেপি নেতারা

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ঝুলছে গ্রেপ্তারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের খাড়া। খোদ দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ১০ অক্টোবরের আগেই জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) বা সমতুল্য কোনো কঠোর ধারায় তাঁকে এবং দলের অপর দুই শীর্ষ নেতা—অভিজিৎ দীপকে ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

“৬ জুন থেকেই আমরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত”: আশুতোষ রাঙ্কা
সোমবার এক বিবৃতিতে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন যে, একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তাঁরা খবর পেয়েছেন যেকোনো মুহূর্তে তাঁদের কারাবন্দি করা হতে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একাধিক সূত্র থেকে খবর পেয়েছি, এনএসএ বা সমতুল্য কোনো ধারায় ১০ তারিখের আগে যেকোনো মুহূর্তে আমাকে, অভিজিৎ ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। গত ৬ জুন থেকেই আমরা তিনজন জেলের মুখোমুখি হতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। এ নিয়ে আমাদের মনে বিন্দুমাত্র ভয় নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁদের চলমান আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে এবং সেই কারণেই গায়ে জোর খাটিয়ে হিংসার পথ বেছে নিচ্ছে। রাঙ্কার কথায়, “যারা এই দেশকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর, তাদেরই ভীত হওয়া উচিত। মহাত্মা গান্ধী যেমন বলেছিলেন, ‘হিংসা ও ঘৃণার জন্ম হয় ভয় থেকে’। সরকার ভীত, আর তাই তারা দমনপীড়নের আশ্রয় নিচ্ছে।” নিজের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমরা ৩০ বছরের তরুণ, যারা এক উন্নত ভারতের জন্য লড়ছি। আমাদের হারানোর কিছু নেই। আপনারা আমাদের গ্রেপ্তার করতে পারেন, মারধর বা খুনও করতে পারেন—কিন্তু আমাদের কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না।”

পিছু হঠবে না ককরোচ জনতা পার্টি: অভিজিৎ দীপকে
সরকারের যেকোনো কঠোর পদক্ষেপের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে সাফ জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ইউএপিএ (UAPA), এনএসএ বা দীর্ঘ কারাবাসের ভয় দেখিয়ে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

দীপকে বলেন, “সরকার যদি ভেবে থাকে জেলে পাঠিয়ে আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। প্রয়োজনে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর জেলে কাটাতেও আমরা রাজি, কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে এক চুলও নড়ব না। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস পথ অনুসরণ করেই আমরা রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাব।”

১০ অক্টোবর থেকে বিশাল গণ-সমাবেশের ডাক
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নানা বিতর্কের জেরে সম্প্রতি পুলিশি পদক্ষেপ এবং কয়েকশো কর্মীকে আটকের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে দলের নেতা সৌরভ দাস লিখেছেন, সরকার যতই স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিক না কেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ সম্পূর্ণ সচেতন।

সৌরভ দাসের হুঁশিয়ারি, “সরকার আমাদের গ্রেপ্তার করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু তারা যদি ভাবে এসব করে আন্দোলন থামানো যাবে, তবে তারা ভুল করছে। তরুণরা জেগে উঠেছে।” দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান যে, নেতারা গ্রেপ্তার হলেও সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের অধিকারের লড়াই বন্ধ না করেন।

আসন্ন ১০ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে এক বিশাল গণ-সমাবেশ ও গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির সাফ ঘোষণা, জেল বা যেকোনো চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তাঁরা প্রস্তুত থাকলেও, নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াইয়ে তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *