মাত্র ১ টাকারও কমে ১০ লক্ষ টাকার বিমা! ট্রেনের টিকিট কাটার সময় এই ছোট্ট ভুলটি করছেন না তো?

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সময় আমরা অনেকেই বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। এই সময় অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায় আইআরসিটিসি (IRCTC)-র দেওয়া ‘ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স’ (Travel Insurance) বা ভ্রমণ বিমার অপশনটি। অনেকেই মাত্র ৪৫ পয়সা বা ১ টাকারও কম এই সামান্য খরচকে পাত্তা দেন না বা গুরুত্বহীন মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই কয়েক পয়সার সামান্য প্রিমিয়ামের পিছনেই আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য লুকিয়ে আছে ১০ লক্ষ টাকার বিশাল আর্থিক নিরাপত্তা?

মাত্র ১ টাকায় ১০ লক্ষ টাকার বিমা কীভাবে সম্ভব?
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, এত কম খরচে এত বড় কভারেজ কীভাবে সম্ভব? আসলে বিমা কোম্পানিগুলো এই ক্ষেত্রে ‘গ্রুপ রিস্ক কভারেজ’ (Group Risk Coverage) পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। তারা একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ যাত্রীর কাছ থেকে সামান্য পরিমাণ প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই পলিসি সারা বছরের জন্য নয়, এটি কেবল আপনার নির্দিষ্ট ট্রেন যাত্রার কয়েক ঘণ্টার জন্যই প্রযোজ্য। ঠিক এই কারণেই এর খরচ এত কম রাখা সম্ভব হয়।

এই বিমার আকর্ষণীয় সুবিধাগুলো কী কী?
মাত্র কয়েক পয়সা খরচ করে টিকিট কাটার সময় এই ইন্স্যুরেন্স বেছে নিলে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

দুর্ঘটনা বা মৃত্যু: ট্রেন যাত্রার সময় দুর্ভাগ্যবশত কোনো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলে এবং তাতে যাত্রীর মৃত্যু হলে কিংবা সম্পূর্ণ স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিলে পরিবার সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পায়।

আংশিক অক্ষমতা: দুর্ঘটনার জেরে কোনো যাত্রী যদি আংশিকভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

হাসপাতালের খরচ: ট্রেন দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে চিকিৎসার খরচ নির্বাহের জন্য যাত্রী ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পান।

মৃতদেহ পরিবহনের খরচ: দুর্ঘটনাজনিত কারণে যাত্রীর মৃত্যু হলে, মৃতদেহ সসম্মানে বাড়িতে বা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবারকে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

কোন কোন ক্ষেত্রে এই বিমা প্রযোজ্য নয়?
সতর্কতা হিসেবে মনে রাখা দরকার যে, এই বিমা কেবলমাত্র ট্রেন যাত্রার সময় ঘটা নির্দিষ্ট দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই কাজে আসে। যাত্রাপথে হঠাৎ জ্বর বা অন্য কোনো সাধারণ বা প্রাক-বিদ্যমান অসুখ হলে এই বিমা থেকে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। এছাড়া, ট্রেন চলাকালীন রেললাইন পার হওয়ার মতো কোনো অবৈধ বা বেআইনি কাজ করলে কিংবা রেলওয়ে স্টেশনের প্রাঙ্গণের বাইরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

নমিনির তথ্য দেওয়া কেন বাধ্যতামূলক?
টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর বা ইমেলে একটি নমিনির লিঙ্ক আসে। অনেকেই ভুলবশত এই লিঙ্কটিকে এড়িয়ে যান। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি সেখানে সঠিক নমিনির তথ্য আপডেট করলেই তবে জরুরি পরিস্থিতিতে আপনার পরিবারের কাছে এই আর্থিক সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারবে। তাই আগামী দিনে যখনই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটবেন, এই অপশনটিতে ‘Yes’ ক্লিক করতে এবং নমিনির নাম তুলতে একদম ভুলবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *