“জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অর্থ নেই!” ভোট বয়কটের হুশিয়ারি দিয়ে কিসের ইঙ্গিত দিলেন অভিজিৎ?

আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় সংশয় প্রকাশ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার যতদিন এই পদে বহাল থাকবেন, ততদিন কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো অর্থই হয় না। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একহাত নিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে এমন সব রাজ্যেও বিজেপি জয়লাভ করছে যেখানে অতীতে ‘মোদি ঝড়ের’ তুঙ্গ মুহূর্তেও তারা ব্যর্থ হয়েছিল।
পুণেতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে অভিজিৎ দীপকে
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সূত্রে জানা গেছে, পুণেতে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPSC) পরীক্ষার নানা অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের সমর্থন জানাতে গিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপকে। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই নির্বাচন কমিশন ও মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
সিজেপি প্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার মনে হয়, যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন এবং দেশে সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ এ ধরনের সাজানো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো মানে হয় না। কারণ কে জয়ী হবেন, তা আগেই নির্ধারিত থাকে।”
প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
মহারাষ্ট্রে বারবার এমপিসি (MPSC) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের ন্যায্য দাবি ও ভবিষ্যতের সুরক্ষার দাবিতে পুণেতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন। পরীক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। একইসঙ্গে এই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (NCP) নেতা রোহিত পাওয়ারের (রোহিত পওয়ার)-এর ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ও সাংবাদিকদের সামনে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, এমপিসির সমস্ত পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী রোহিত পাওয়ারের পাশে তাঁরা শক্তভাবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার জেরে রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি এমপিসি পরীক্ষার্থী আজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাঁরা অবিলম্বে এমপিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছেন। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে অভিজিৎ দীপকের এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।