আফগান সীমান্তে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা? তাশিকিস্তানকে বাঁচাতে হঠাৎ কেন কোমর বেঁধে নামল রাশিয়া?

আফগানিস্তান সংলগ্ন তাজিখস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ফের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মস্কো। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের থার্ড সিআইএস (CIS) ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার স্টার্নিক জানিয়েছেন যে, ক্রেমলিন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাজিখস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের সুরক্ষা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুশানবের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমানা সুরক্ষিত রাখতে সর্বাত্মক সাহায্য অব্যাহত রেখেছে।

তাজিখ সেনাকে অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সাহায্য রাশিয়ার
স্টার্নিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজিখ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে রুশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নিয়মিতভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, সামরিক অস্ত্রশস্ত্র এবং সাজোসরঞ্জাম সরবরাহ করে চলেছে। এটি মূলত রাশিয়া ও তাজিখস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতারই একটি অংশ।

পাশাপাশি, ‘কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ (CSTO)-এর পাঁচ বছর মেয়াদী একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এই সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো সীমান্ত পাহারা, নজরদারি এবং তাজিখ সীমান্ত বাহিনীর সামগ্রিক প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া।

কেন বাড়ছে আফগান সীমান্ত নিয়ে চিন্তা?
আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে তাজিখস্তানের, যা দেশটির জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় নিরাপত্তার মোর্চা। সাম্প্রতিক সময়ে আফগান ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত পার হয়ে নানা হামলা এবং সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি গত অগাস্ট মাসেও সীমান্তে সশস্ত্র অনুপ্রবেশ এবং গোলাগুলির ঘটনা সামনে এসেছিল।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই সিএসটিও (CSTO)-র পক্ষ থেকে তাজিখ সীমান্তে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফার সামরিক সরঞ্জাম ২০২৬ সালের শীতকালের মধ্যেই এসে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে রাশিয়া। এছাড়া মধ্য এশিয়ায় মস্কোর সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি হিসেবে তাজিখস্তানে রাশিয়ার নিজস্ব ২০১তম মিলিটারি বেসও সক্রিয় রয়েছে।

মস্কোয় আফগানিস্তান নিয়ে মেগা বৈঠক
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার মস্কোয় আফগানিস্তান সংক্রান্ত ‘মস্কো ফরম্যাট’-এর অষ্টম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরান, পাকিস্তান, তাজিখস্তান, কাজাখস্তান, কির্গিজস্তান এবং উজবেকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে আফগানিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রধানত সন্ত্রাসবাদ দমন এবং মাদক পাচার রোধে যৌথ আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সন্ত্রাসবাদ যাতে মধ্য এশিয়ার অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই মস্কো এখন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *