“অপরাধ করলে মরতে হবে!” অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে দিল্লি পুলিশকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের!

দিল্লিতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্রমবর্ধমান চিত্রের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কার্যকর ও কঠোর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে অপরাধ করার ভীতি তৈরি করতে হবে। দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অনভিপ্রেত যৌন নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষিতে এই কঠোর পর্যবেক্ষণ আদালতের।

অপরাধীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করতে হবে: সুপ্রিম কোর্ট
দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “আপনাদের অসামাজিক উপাদানগুলোর মনে ভয়ের সৃষ্টি করতে হবে।” শুনানিকালীন বিচারপতি পারদিওয়ালা মন্তব্য করেন যে, অপরাধীদের এমন বার্তা দেওয়া উচিত যাতে তাদের মনে হয়—আইন ভাঙার চেষ্টা করলেই গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাদের মনে যেন এই ভাবনা আসে—”এখন কিছু করলে তো মরতে হবে।”

সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) প্রসঙ্গ টেনে আদালত জানিয়েছে, পরিস্থিতির দাবি থাকলে কড়া পদক্ষেপ করতে পুলিশের বিন্দুমাত্র দ্বিধা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে অনেকে এই অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে হইচই করতে পারে, তবুও জননিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে কঠোর ও আপসহীন হতে হবে।

টহলদারি ও মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতায় জোর
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আদালত ‘বিট পেট্রোলিং’ বা এলাকাভিত্তিক নিয়মিত টহলদারির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। পুলিশ কর্মীরা কেবল নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে না থেকে যাতে সক্রিয়ভাবে নির্ধারিত এলাকায় চলাচল করেন, সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় পুলিশ ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকার প্রথা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

উৎসবের মরসুমে বাড়তি সতর্কতা
আসন্ন দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মতো উৎসবের দিনগুলিতে দুষ্কৃতীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট পুলিশকে বাড়তি সতর্কবার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি, অন্ধকার বা অপর্যাপ্ত আলোযুক্ত এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার বিষয়ে পুলিশের কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংযোগ ও অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ
পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে এবং অপর্যাপ্ত সড়কবাতি বা বখাটেদের উপদ্রবের মতো অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে শুনতে। এছাড়া, অবৈধ খাবারের দোকান এবং মদের দোকানগুলিকে এমন সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে বখাটেরা সাধারণত আড্ডা দেয়। তাই সামগ্রিক প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ হিসেবে এই বিষয়গুলির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *