৬০ মিসড কল আর ৮০টি শেষ বার্তা! মৃত্যুর আগে বাবা ও পরিবারকে ঠিক কী লিখেছিলেন এই টেককর্মী?

নয়ডার সেক্টর ৯৪-এর বিলাসবহুল সুপারনোভা সোসাইটির একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সম্ভব জৈনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশের হাতে আসা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও মোবাইল ডেটা থেকে জানা গেছে, মর্মান্তিক এই পদক্ষেপ নেওয়ার ঠিক আগে কী ধরনের মানসিক ঝড়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই তরুণ।

৬০ মিসড কল ও ৮০টি শেষ বার্তা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের মুহূর্তে সম্ভবের বাবা তাকে প্রায় ৬০ বার ফোন করেছিলেন। কিন্তু সম্ভব একটি ফোনও রিসিভ করেননি। উল্টো তিনি বাবাকে ঋণ, অসুস্থতা, পারিবারিক অশান্তি এবং ব্যক্তিগত নানা সংকট উল্লেখ করে ৮০টিরও বেশি বার্তা পাঠান।

একটি হৃদয়বিদারক বার্তায় তিনি লেখেন যে, তিনি জীবনের ওপর সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে বাবাকে তাঁর সন্তানের বিশেষ যত্ন নেওয়ার অনুরোধও জানান। তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, মৃত্যুর আগে সম্ভব তাঁর মোবাইলে প্রায় ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ইতিমধ্যেই ফোনটি জব্দ করে ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই শুরু করেছে। ভিডিওটিতে ঠিক কী বলা হয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

১ দিনের জন্য নেওয়া হয়েছিল অ্যাপার্টমেন্ট
পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভব গত কয়েকদিন ধরে বাড়ির বাইরে ছিলেন। গত শুক্রবার তিনি সুপারনোভার স্পাইরা টাওয়ারের ৪২২৮ নম্বর স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টটি মাত্র একদিনের জন্য ভাড়া নেন। শনিবার তাঁর চেক আউট করার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক অশান্তি ও বিবাহবিচ্ছেদের টানাপোড়েন
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভবের সন্তানের জন্ম হয়েছিল সময়ের আগে। ওই নবজাতকের চিকিৎসার পেছনে তাঁকে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের প্রভাব পড়ে তাঁর দাম্পত্য জীবনেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি স্ত্রীর থেকে আলাদা হয়ে যান এবং পরবর্তীতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। জানা গেছে, ওই বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নিষ্পত্তিতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়টিও জড়িত ছিল।

প্রায় ৩ কোটি টাকার ঋণের দাবি
পরিবারের বক্তব্য এবং প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অনটনকেই এই আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, সম্ভবের ঘাড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ঋণ ছিল। যদিও পুলিশ এখনও এই অঙ্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবুও তদন্তের স্বার্থে তাঁর সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও ঋণের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট
পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভবের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শক এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এককভাবে কোনো একটি কারণকে চূড়ান্ত বলে মেনে নিচ্ছে না পুলিশ। মোবাইল চ্যাট, শেষ ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রমাণ এবং পরিবারের সদস্যদের বয়ান একসঙ্গে মিলিয়ে এই মৃত্যুর নেপথ্যের আসল সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *