প্রেমের টানে বিয়ের আট মাসের মাথাতেই স্বামীকে খুন! দেড় মাস ধরে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত স্ত্রী শেষমেশ পুলিশের জালে

ভালোবাসার বিয়ে হয়েছিল সবেমাত্র আট মাস আগে। কিন্তু পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সেই সুখের সংসারে নেমে আসে চরম হানাহানি। পরকীয়ার কথা জানাজানি হতেই স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে অবশেষে এক মহিলাকে গ্রেফতার করল থানে পুলিশ। গত দেড় মাস ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত গৃহবধূ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই মহিলার নাম দীপালী ওরফে বালী বিজয় সালুঙ্কে (২৯)। তাঁর মৃত স্বামীর নাম গৌরব রাগদে (২৭), যিনি পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন এবং তাঁদের বাড়ি ছিল নাগপুরের আজনিতে। এনডিটিভি-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌরবের সঙ্গে দীপালীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং মাত্র আট মাস আগে, গত বছরের অগাস্ট মাসে তাঁরা ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
কেন ঘটেছিল এই নৃশংস খুন?
বিয়ে করে একসঙ্গে সংসার শুরু করার কিছুদিন পরই গৌরব জানতে পারেন যে, দীপালীর সঙ্গে ঋষিকেশ খোড়ে (Rishikesh Khode) নামের অন্য এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এই অবৈধ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই তীব্র অশান্তি ও ঝগড়া শুরু হতো। ফলস্বরূপ, দীপালী ঘর ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন।
গত ২০ অগাস্ট গৌরব তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান যে, তিনি দীপাল ও ঋষিকেশের সঙ্গে দেখা করতে এবং এই পারিবারিক বিবাদ মিটিয়ে নিতে নরেন্দ্র নগরে যাচ্ছেন। জানা গেছে, সেদিন সুন্দরবন লেআউটে নিজের দুই সঙ্গীর সঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন গৌরব। এরপর বিকেল ৫টা নাগাদ গৌরবের সঙ্গে ওই দলের তুমুল কথা কাটাকাটি শুরু হয়। গৌরবের বাবার অভিযোগ, দীপালী নিজে প্ররোচনা দেওয়ায় ঋষিকেশ ও তার সঙ্গীরা নরেন্দ্র নগরের ড্রেন ব্রিজের কাছে ধারালো ছুরি দিয়ে গৌরবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
দেড় মাস পর পুলিশের জালে অভিযুক্ত
হামলায় গুরুতর জখম অবস্থায় গৌরবকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাননি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত স্ত্রী দীপালী। অবশেষে গত শনিবার থানের ড. আম্বেদকর রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে থানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল।
থানের সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর শৈলেশ সালভি (Sailesh Salvi) জানান যে, পুলিশি জেরার মুখে নিজের স্বামী খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন দীপালী। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁকে নাগপুরের বেলতারোদি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।