‘সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়?’-BJP-তে যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খুলতেই বিস্ফোরক সায়ন্তিকা

সিনেমার রূপালি পর্দার চেয়েও রাজনৈতিক কেরিয়ারে তাঁর দৌড়ঝাঁপ ছিল অনেক বেশি দৃশ্যমান। বাঁকুড়া থেকে বরানগর—এই রাজনৈতিক সফর সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কখনই জাদুকরি বা সহজ ছিল না। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও মরিয়া হয়ে চষে বেড়িয়েছিলেন প্রচারের ময়দান। ভোটের প্রচারে নাওয়া-খাওয়া ভুলে এক্কেবারে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এমনকি রাজনৈতিক ব্যস্ততায় নায়িকাসুলভ সুঠাম চেহারা ভেঙে ওজনও বাড়িয়ে ফেলেছিলেন অনেকটাই। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে ভোটের ফলাফল বদলে দেয় সব হিসাব-নিকাশ। রাজনীতি ছেড়ে আজ তিনি ফিরেছেন নিজের চেনা দুনিয়া—লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের আলোয়, কমিয়েছেন ওজনও। আর ঠিক এই সময়েই, যখন একের পর এক তারকা দলবদল করছেন, তখন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এক পডকাস্টে একেবারে বোমা ফাটালেন সায়ন্তিকা।

পডকাস্টে সোজাসাপ্টা সায়ন্তিকা: “সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়?”

সম্প্রতি একটি খোলামেলা পডকাস্টে হাজির হয়ে প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সটান প্রশ্ন করা হয়—তবে কি এবার বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন তিনি? এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সায়ন্তিকার সাফ জবাব, “এই ভাল আছি, সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়?”

এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি ঠিক কোন দলে রয়েছেন বা কোন তৃণমূলের প্রতিনিধি? উত্তরে অভিনেত্রী একেবারে রাখঢাক না রেখে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি বর্তমানে ‘কোনো তৃণমূলেই নেই’। সায়ন্তিকার কথায়, রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা একটা বিষয়। সাধারণ মানুষ বা পেশাদাররা সেই স্তরের নোংরামি করতে পারবেন না, যা একজন পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন।

রাজনীতির অন্দরমহলের তীব্র সমালোচনা করে সায়ন্তিকা বলেন, “রাজনীতিতে টিকতে হলে গণ্ডারের চামড়া বানিয়ে নিতে হয়। আমরা স্পর্শকাতর মানুষ, আমাদের ব্যথা লাগে, আমরা দুঃখ পাই। ওই লেভেলের গণ্ডারের চামড়া মোটা করে নিতে না পারলে ভালো রাজনীতিক হওয়া যায় না।”

বাঁকুড়ার মাটি থেকে বরানগর ও রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ইতিকথা

একসময় অভিনয় জগত থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পুরোদমে রাজনীতিকেই আঁকড়ে ধরেছিলেন সায়ন্তিকা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন তিনি। যদিও বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার কাছে তাঁকে হার মানতে হয়, তবুও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী। ভোটের ময়দানে হেরে যাওয়ার পরও বাঁকুড়ার মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন, সেখানকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত জনসংযোগ বজায় রেখে নিজের ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বও দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া আসন থেকে টিকিট পাওয়ার প্রবল দাবিদার ছিলেন সায়ন্তিকা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দল তাঁকে প্রার্থী না করে অরূপ চক্রবর্তীকে বেছে নেয়। এই টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভেই তিনি সে সময় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বলে জোর চর্চা শুরু হয়। যদিও সেইসময় অভিনেত্রী বা দল আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলোনি।

এর পর বরানগরের উপনির্বাচনে সায়ন্তিকাকে ‘পুনর্বাসন’ দেয় দল। সেই ভোটে জিতে তিনি বিধায়কও হন। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আর ভাগ্য সহায় হয়নি, ভরাডুবি হয় তৃণমূলের। আর এই হারের পরেই চিরতরে রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন সায়ন্তিকা।

চেনা ছন্দে কামব্যাক ও রূপান্তর

ভোটে হারের ধাক্কা কাটিয়ে এখন নিজের শরীর ও মনের পরিচর্যাতেই মন দিয়েছেন এই জনপ্রিয় নায়িকা। জিমে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে আগের মতো স্লিম ফিগার ফিরিয়ে এনেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁকে নিয়মিত নাচের ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। রাজনীতির ধুলোবালি ছেড়ে প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পুরোপুরি ফিরে গিয়েছেন তাঁর চিরচেনা বিনোদন জগতের আঙিনায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *