২২ বছরের খরা কাটল! এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়ে সোনা জয় ভারতীয় তরুণীর

এশিয়ান গেমসের মঞ্চে গলফে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ডের অধিকারী হলেন ভারতের ২৩ বছর বয়সি তারকা গলফার প্রণবী উরস (Pranavi Urs)। মহাদেশীয় এই মেগা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় মহিলা গলফার হিসেবে একক ইভেন্টে সোনা জিতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন মহীশূরের এই তরুণী। শুধু নিজের একক ইভেন্টে সোনা জয়ই নয়, প্রণবীর দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের ওপর ভর করে ভারত এশিয়ান গেমসের গলফে মহিলা দলগত ইভেন্টেও রূপো ছিনিয়ে নিয়েছে।

ট্রিপল বগি থেকে অনবদ্য কামব্যাক
এদিন ফাইনাল রাউন্ডের শুরুটা অবশ্য প্রণবীর জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। আগের দিনের ৩ শটের লিড বজায় রেখে কোর্সে নেমেও ৩ নম্বর হোল-এ একটি মারাত্মক ‘ট্রিপল বগি’ করে বসেন তিনি। যার জেরে এক ধাক্কায় তাঁর হাতের লিড পুরো মুছে যায়। কিন্তু সেখান থেকে যেভাবে দুর্দান্ত কামব্যাক করলেন প্রণবী, তা সত্যিই বিশ্বমানের। ৬, ১০ এবং ১৩ নম্বর হোল-এ পর পর তিনটি অনবদ্য ‘বার্ডি’ মেরে খেলায় দারুণভাবে ফিরে আসেন তিনি। ফাইনাল রাউন্ডে ইভেন-পার ৭০ স্কোর করে চার দিনের খেলা শেষে মোট ১৫-আন্ডার ২৬৫ স্কোর গড়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখেন এবং মাত্র ১ শটের ব্যবধানে সোনা নিশ্চিত করেন।

প্লে-অফের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর চিনের ইন রুয়েনিং (৬৭) রূপো এবং সিঙ্গাপুরের শ্যানন টান (৬৮) ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। দু’জনেই ২৬৬ স্কোরে খেলা শেষ করেছিলেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উচ্ছ্বসিত প্রণবী বলেন, “যেকোনও ক্ষেত্রে প্রথম হওয়াটা আমি সবসময় পছন্দ করি। আমার পরে হয়তো অনেকেই এই জায়গায় পৌঁছবেন এবং আরও অনেক বড় সাফল্য পাবেন, কিন্তু প্রথমজন সবসময় প্রথমই হয়ে থাকে।”

দলগত ইভেন্টেও ঐতিহাসিক রূপো জয়
ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি ভারতের মহিলা গলফ দলকে রূপো জেতাতেও নির্ণায়ক ভূমিকা নেন প্রণবী। দলগত ইভেন্টে প্রণবীর সঙ্গে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন অভিজ্ঞ অলিম্পিয়ান অদিতি অশোক এবং দীক্ষা ডাগর। গলফের নিয়ম অনুযায়ী একটি দলের সেরা দুই গলফারের স্কোরকে পদক নির্ধারণের জন্য গণনা করা হয়।

গত এশিয়ান গেমসে একক ইভেন্টে রুপোজয়ী অদিতি অশোক টুর্নামেন্টে নিজের সেরা পারফর্ম্যান্স দেন ফাইনাল রাউন্ডেই। টানা ৫টি বার্ডি হাঁকিয়ে তিনি পার-এর নিচে স্কোর নামিয়ে আনেন এবং ২-ওভার ২৮২ স্কোর করে যৌথভাবে ১৪ নম্বর স্থানে শেষ করেন। অন্যদিকে দীক্ষা ডাগড় ১২-ওভার স্কোরে ২৩তম স্থান অর্জন করেন। প্রণবী ও অদিতির যৌথ লড়াইয়ের ওপর ভর করে ভারত দলগতভাবে ১৪-আন্ডার ৫৪৬ স্কোর তুলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে রূপো নিশ্চিত করে। এই বিভাগে ২২-আন্ডার ৫৩৮ স্কোর তুলে সোনা জেতে আয়োজক দেশ চিন। তিন ভারতীয় গলফারের এই সাফল্য এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতীয় মহিলা গলফ টিমের সর্বকালের সেরা পারফর্ম্যান্স।

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান
এশিয়ান গেমসের গলফে ভারতের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ হলেও স্বর্ণপদকের জন্য দীর্ঘ দুই দশকের খরা চলছে। এর আগে ২০০২ সালের এশিয়ান গেমসে পুরুষদের একক ইভেন্টে শেষবারের মতো ভারতের হয়ে সোনা জিতেছিলেন শিব কাপুর। প্রণবীর এই পদক ২২ বছর পর গলফ থেকে ভারতকে আবার সোনা এনে দিল।

পরিসংখ্যান বলছে, সার্বিক পারফর্ম্যান্সের দিক থেকে এটি ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসের পর ভারতের সেরা গলফ অভিযান। ১৯৮২ সালেই প্রথম গলফকে এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে বছর লক্ষণ সিং পুরুষদের এককে সোনা জয়ের পাশাপাশি দলগত ইভেন্টেও সোনা জিতেছিলেন। ৪৪ বছর পর প্রণবী উরসের হাত ধরে আবার সেই সোনালী ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল ভারতীয় গলফে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *