জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি! যন্তর মন্তরে ১৬৩ ধারা জারি হতেই নামল দাঙ্গা দমন বাহিনী

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মোকাবিলায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর সহ গোটা নয়া দিল্লি জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরাতন ১৬৩/১৪৪ ধারা) বলবৎ করে সমস্ত রকমের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাস্তায় নামানো হয়েছে দাঙ্গা দমন পুলিশ সহ বিশেষ বাহিনী।
আজ গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা যথেষ্ট কম। তবে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও ক্রসিংয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা দেখে কাজের দিন এবং ছুটির দিনের তফাত বোঝার উপায় নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই দিল্লি পুলিশ এবার প্রথম থেকেই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের কড়া বার্তা
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যন্তর মন্তরে কোনো ধরনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যন্তর মন্তর সহ গোটা নয়া দিল্লি এলাকা জুড়ে ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এই ধারা অনুযায়ী, রাস্তায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রিত হলেই পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতার করতে পারবে। পুলিশের এই পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও কর্মসূচি
আজ বিকেলে যন্তর মন্তরে একটি বড়সড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি (CJP)। এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। বিশেষ করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে বলে একটি খবর ছড়িয়ে পড়লেও, পরে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানান যে ওই আটকের খবরটি সঠিক নয়।
অন্যদিকে, রাজধানীতে এই টানটান উত্তেজনার মাঝেই মুম্বইয়েও আজ একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিবাজী পার্কের ওই বিকালের সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। মুম্বই পুলিশ অবশ্য এই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ জানিয়েছেন, “শিবাজী পার্কে আমরাও সমাবেশ করতে পারি। এসআইআর (SIR) নিয়ে আমরা আমাদের বক্তব্য সেখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।” সবমিলিয়ে, গান্ধী জয়ন্তীর ছুটির দিনেও দেশের দুই মেগাসিটিতে রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনিক তৎপরতা চরমে উঠেছে।