বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহে ফের প্রাসঙ্গিক বাপুর বার্তা! গান্ধি জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন দেশীয় শীর্ষ নেতৃত্বের

আজ ২ অক্টোবর, ২০২৬। অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী এবং দেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী। ১৫৭তম গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর সেখানে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনা সভাতেও অংশ নেন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।

রাষ্ট্রপতির বার্তা ও ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার প্রত্যয়
গান্ধী জয়ন্তীর এই বিশেষ দিনে দেশবাসীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ও সংঘাতের বর্তমান আবহে মহাত্মা গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার বার্তা আজ আগের চেয়েও অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।” সমাজের সর্বস্তরের কল্যাণ এবং উন্নয়নের যে আদর্শ গান্ধীজি তুলে ধরেছিলেন, তাকে পাথেয় করেই ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সহমর্মিতা ও সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার নীতিকে সামনে রেখেই ভারত আজ আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় লেখেন, “সত্য, অহিংসা, সহমর্মিতা এবং সেবার যে আদর্শ গান্ধীজি তাঁর সারা জীবন দিয়ে স্থাপন করে গেছেন, তা সব যুগেই মানবসমাজকে সঠিক পথ দেখাবে।” গান্ধীজির চিন্তা আগামী দিনে এক উন্নত সমাজ গঠনে দিশা দেখাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া, একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে অন্তত একটি খাদি সামগ্রী কেনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে বাপুর স্বদেশি আদর্শ দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকে।

অন্যদিকে, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনও মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও বাণী মানবতাকে নিঃস্বার্থতা ও সেবার পথ দেখায় বলে মন্তব্য করেন। তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরে একটি ন্যায়সঙ্গত ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ার শপথ নেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ
মহাত্মা গান্ধীর পাশাপাশি এদিন দেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও তাঁকে সশ্রদ্ধ স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিজয়ঘাটে গিয়ে শাস্ত্রীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপরাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর অমর স্লোগান ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’-এর কথা স্মরণ করে দেশের অন্নদাতা কৃষক ও বীর জওয়ানদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর অত্যন্ত সরল জীবনযাপন ও দেশসেবার প্রতি অগাধ নিষ্ঠার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি ও রাজ্য়ের চিত্র
দিল্লির রাজঘাটে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, উপরাজ্যপাল তরণজিৎ সিংহ সান্ধু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও মহাসমারোহে পালিত হয়েছে দিনটি:

ওড়িশার পুরীতে বিখ্যাত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়কের স্যান্ড আর্ট ইনস্টিটিউটের পড়ুয়ারা বালির মাধ্যমে গান্ধীজির বিশেষ অ্যানিমেশন ফুটিয়ে তোলেন।

রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এবং হরিয়ানার গুরুগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিংহ সাইনি স্বচ্ছতা অভিযানে অংশ নেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও মহাসমারোহে গঙ্গা তীরবর্তী ব্যারাকপুর গান্ধী ঘাটে ১৫৭তম গান্ধী জয়ন্তী পালিত হয়। সেখানে রাজ্যপাল আর এন রবি গান্ধীঘাটে উপস্থিত হয়ে স্মরণসভায় অংশ নেন এবং পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

অহিংসার প্রতি তাঁর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপুঞ্জও ২ অক্টোবর দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে পালন করে। বাপু ও শাস্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এক উন্নত ও পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়েই আজ দিনভর দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *