“মোদীজির কাছে যুদ্ধ থামানোর দারুণ রাস্তা আছে!”-রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুতিন!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক দূরদৃষ্টি ও ভাবনার ওপরই ভরসা রাখছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খোদ পুতিন এক মন্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইউক্রেন সংঘাত অবসানের উদ্যোগকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিন্তাভাবনা এবং যুদ্ধ থামানোর উপায় উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
পুতিনের মুখে মোদীর ভূয়সী প্রশংসা
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি জানান, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে অত্যন্ত ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদী বিভিন্ন বৈঠকে ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। পুতিনের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এই যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী। তাঁর কাছে এমন ভালো উপায় রয়েছে, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে। মোদীজি এই বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেও যেভাবে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতাকে রাশিয়া যে সাধুবাদ জানায়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন পুতিন।
জাপানি সংবাদমাধ্যমে মোদীর বার্তা
এর আগে অগাস্ট মাসে জাপান সফরের সময় ‘দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন’ নামক এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারত শুরু থেকেই নীতিগত ও মানবিক অবস্থান বজায় রেখেছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন—উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই ভারতের এই নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি, সমস্ত সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমেই যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারদ
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতার সেই বৈঠকে ‘প্রোগ্রাম ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পুতিনের এই মন্তব্য ভারতের বিশ্বজোড়া কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও এক ধাপ ওপরে তুলে ধরল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।