মাঝআকাশে ছুরির কোপে রক্তাক্ত! মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোন মন্ত্র জপে প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিত?

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের নৃশংস হামলার শিকার হওয়া ও গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যেও ক্যাপ্টেন স্মিত যে অসীম সাহসিকতা, ধৈর্য ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

ক্যাপ্টেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথন ও আত্মবিশ্বাস
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিশেষ ফোনালাপে ফ্লাইদুবাইয়ের সেই ভয়াবহ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। সেই চরম সংকটের মুহূর্তে ঠিক কীভাবে তিনি নিজের মানসিক জোর ও সাহস বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন, সে কথাও প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অকৃত্রিম প্রশংসার জবাবে ক্যাপ্টেন স্মিত তাঁকে নিজের জীবনের অন্যতম আদর্শ বলে উল্লেখ করেন।

কথোপকথনের সময় নিজের মানসিক শক্তির উৎস সম্পর্কে বলতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন স্মিত। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানান, ‘‘আমার যখন কষ্ট হয় হনুমান চালিশা পাঠ করি। ওই সময়ই যখন চাকুর আঘাতে ব্যথা করছিল, আমি মনে মনে হনুমান চালিশা পড়ছিলাম। আমার ন’বছরের ছেলেকেও আমি প্রতিদিন পুজো করার সময় হনুমান চালিশা পাঠ করে শোনাই।’’ দেশ ও সংস্কৃতির প্রতি নিজের গভীর টানের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি দেশ থেকে দূরে আছি, কিন্তু দেশের সংস্কৃতি থেকে দূরে নেই। আমি আমার শরীরের এই ক্ষতগুলো নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছি না। বরং এটাকে জীবনের একটা যাত্রার মতো দেখছি। আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে খুব শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠব।’’

ভয়াবহ সেই ঘটনার নেপথ্য কাহিনী
উল্লেখ্য, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই ফ্লাইটে সেসময় মোট ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। কিন্তু মাঝআকাশে উড়ানের সময় হঠাৎই সহ-পাইলট ধারালো ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালান। এই আকস্মিক হামলায় ককপিটের মধ্যেই রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি থেকে জরুরি ও বেআইনি হস্তক্ষেপের (Unlawful Interference) সঙ্কেত পাঠানো হয় এবং বিমানটির উচ্চতাও দ্রুত কমতে শুরু করে।

হামলায় মারাত্মক জখম হওয়া সত্ত্বেও এক মুহূর্তের জন্যও হাল ছাড়েননি ক্যাপ্টেন স্মিত। চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি নিজে কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর বিমানের অন্যান্য যাত্রী ও ক্যাবিন ক্রুরা দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারী সহ-পাইলটকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিশেষ করে, বিমানে যাত্রী হিসেবে উপস্থিত থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত পাইলটও সেই সংকটময় মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে বিমানটিকে গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সৌভাগ্যবশত, এই রক্তক্ষয়ী ও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যেও বিমানের সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *