প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পর এবার কমিশনের আইটি প্রধানের বিরুদ্ধে সোচ্চার মহুয়া মৈত্র! থানায় এফআইআরের দাবি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নির্বাচন কমিশনের আইটি শাখার শীর্ষ পদাধিকারী সীমা খন্নার বিরুদ্ধে সরাসরি সোচ্চার হলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ইতিমধ্যে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে সীমা খন্নার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। মহুয়ার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম ছাঁটাই এবং বিকৃত করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে মহুয়ার অভিযোগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর (FIR) দায়ের করবে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এই আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির খবর নিতে আগামী ৬ অক্টোবর তিনি নিজে ফের থানায় যাবেন বলে জানিয়েছেন।
কমিশনের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষোভ অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, যেখানে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তথ্য যাচাই করতে মাসের পর মাস সময় লাগে, সেখানে দিল্লির আইটি বিভাগ কীভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাক-এন্ড সফটওয়্যার ব্যবহার করে পুরো পরিসংখ্যান বদলে দেয়? সেই সময় সীমা খন্নার নাম উল্লেখ করে তাঁর ডিজিটাল বার্তার স্ক্রিনশট জনসমক্ষে আনার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন অভিষেক।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন ও ব্যাক-এন্ড ম্যানিপুলেশন
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্ফোরক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, “আমরা আগে থেকেই জানতাম যে নির্বাচন কমিশন কীভাবে ব্যাক-এন্ড সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্থানীয় ইআরও (ERO) ও বিএলও-দের নজর এড়িয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটার তালিকায় ব্যাপক ম্যানিপুলেশন চালাচ্ছে। এর মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন জ্ঞানেশ কুমার এবং সীমা খন্না।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে একই থানায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর ও গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সরাসরি কোনো শীর্ষ কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা সম্ভব নয়। এরপর সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আইটি প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় পৌঁছে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বনাম তৃণমূলের এই সংঘাত নতুন মাত্রা নিল।