অটোতে বসেই স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন শেষ ছবি! নিখোঁজ বাউন্সারের গলা কাটা দেহ নালা থেকে উদ্ধার হতেই চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর-৭১ এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক বাউন্সারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে দিল্লির গাজিপুরের ফুল মান্ডি সংলগ্ন একটি নালা থেকে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে স্ত্রীর মোবাইলে পাঠানো একটি অটোর ছবি ও নম্বরের সূত্র ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য এসেছে।
মৃত যুবকের নাম অজয় চৌধুরী। তিনি নয়ডার সেক্টর-১২১ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর গাড়িচালক ও বাউন্সার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ডিউটি শেষ করে সেক্টর-৭১ থেকে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই যে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পরিবার।
স্ত্রীকে পাঠানো শেষ ছবি ও রহস্যজনক নিখোঁজ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে অজয় সেক্টর-৭১ থেকে আনন্দ বিহারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ছিজারসির কাছে একটি অটোচালকের সঙ্গে তাঁর কোনো বিষয় নিয়ে তীব্র বচসা বা বিরোধ বাঁধে। এরপর তিনি সেই অটো বদলে অন্য একটি অটো ধরে আনন্দ বিহারে পৌঁছান। সেখানে একটি দোকান থেকে জল ও নুনভাজা (নমকিন) কেনার পর রাত প্রায় ১১টা ২২ মিনিটে তিনি সেই দোকান এবং একটি অটোর ছবি তুলে তাঁর স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন। এর ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইল ফোনটি সুইচ অফ হয়ে যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর নয়ডার ফেজ-৩ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (মিসিং কমপ্লেন) করা হয়। এদিকে, সাইবার সেলের নজরদারিতে অজয়ের মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল গাজিয়াবাদের ডসনা এলাকায়।
নালা থেকে ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার
এরই মধ্যে দিল্লি পুলিশের কাছে খবর আসে যে, গাজিপুর ফুল মান্ডি সংলগ্ন একটি নালা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে দেহটি অজয় চৌধুরীর বলে শনাক্ত করেন। অজয়ের গলা এবং শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের বা চাকুর বহু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যা দেখে পুলিশ ও পরিবারের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
অটো চালক আটক ও তদন্তের অগ্রগতি
পরিবার ও স্বজনদের সন্দেহের তির যে অটোচালকের দিকে ছিল, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে সেই অভিযুক্ত অটোচালককে আটক করেছে। বর্তমানে তাকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। অটোটির আসল নম্বর প্লেট, দোকান থেকে পাঠানো ছবি, সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) এবং যাতায়াতের রাস্তার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঠিক কী কারণে বাউন্সার অজয় চৌধুরীকে এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা উদ্ঘাটনে এখন সব কটি সূত্র এক করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।