পুজোর আগেই পকেটে সুখবর! রাজ্য সরকারের বড় ঘোষণায় একলাফে বাড়ল পার্শ্বশিক্ষক ও চুক্তভিত্তিক কর্মীদের বেতন

পুজোর ঠিক আগে রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মী এবং পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য বড় ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একাধিক পদে মাসিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদের ধরন অনুযায়ী কারও বেতন ৫ হাজার টাকা, কারও ৬ হাজার টাকা, আবার কারও ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন বেতন কাঠামো ১ অক্টোবর থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্লানিং অ্যান্ড বাজেট শাখা থেকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্য ক্যাবিনেট এবং রাজ্যপালের অনুমোদনের পরেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেছেন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ইশা মুখোপাধ্যায়।
কার কত বেতন বাড়ল? এক নজরে নতুন তালিকা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী বিভিন্ন পদের সংশোধিত বেতন নিম্নরূপ:
প্রাথমিকের প্যারা টিচার ও এসএসকে-র সহায়ক: আগের ১১,৯৪১ টাকার সঙ্গে ৫ হাজার টাকা বেড়ে নতুন বেতন হয়েছে ১৬,৯৪১ টাকা।
উচ্চ প্রাথমিকের প্যারা টিচার ও এমএসকে-র শিক্ষক: আগের ১৫,৫২৩ টাকার সঙ্গে ৫ হাজার টাকা বেড়ে নতুন বেতন হয়েছে ২০,৫২৩ টাকা।
শিক্ষাবন্ধু: এই পদে নতুন বেতন ধার্য করা হয়েছে ১৪,৯৫৪ টাকা।
স্পেশাল এডুকেটর: বেতন বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে হয়েছে ১৯,৯২৪ টাকা।
পার্ট-টাইম উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক: ৫ হাজার টাকা বেড়ে নতুন বেতন দাঁড়িয়েছে ২০,২১৮ টাকা।
অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার: ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধির পর নতুন বেতন হয়েছে ১৮,৭৮১ টাকা।
পিএ-কাম-ডিইও: ৫ হাজার টাকা বেড়ে এখন এই কর্মীরা পাবেন ১৯,৭৭৪ টাকা।
মুখ্য শিক্ষক: ৬ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির ফলে নতুন বেতন হয়েছে ২২,১৭৮ টাকা।
ডিস্ট্রিক্ট কোয়ালিটি ম্যানেজার: ৬ হাজার টাকা বেড়ে নতুন বেতন হয়েছে ২৫,৬৯২ টাকা।
ম্যানেজমেন্ট স্টাফ: এই ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ বর্তমান বেতনের ওপর নির্ভর করছে। ২৫ হাজার টাকার কম বেতন হলে ৫ হাজার টাকা, ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে হলে ৭ হাজার টাকা এবং ৪০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে বেতন হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
বেতন বৃদ্ধি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন
সরকারর তরফ থেকে পুজোর আগে এই বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও, তা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় শিক্ষক সংগঠনগুলি। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এর আগে বাজেট ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে পার্শ্বশিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীরা ১ আগস্ট থেকেই বর্ধিত বেতন পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ায় কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, আগামী দিনে এই কর্মীদের জন্য আরও সম্মানজনক স্থায়ী বেতন কাঠামোর দাবি তুলেছেন শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীও পার্শ্বশিক্ষকদের একটি সুনির্দিষ্ট ন্যূনতম বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন।