INDIA জোটে বড় বরফ গলল! প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে ঠিক কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গেল। বিজেপি বিরোধী দলগুলির এই বৈঠকে বামেদের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি, জাতীয় রাজনীতিতে এক নমনীয় ও সমঝোতার মনোভাব স্পষ্ট করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে কেবল রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, বরং সিভিল সোসাইটি এবং বুদ্ধিজীবীদেরও এক ছাতার তলায় আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

বাম প্রস্তাব সমর্থন ও মমতার তৎপরতা
বৈঠকের শুরুতেই সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি প্রস্তাব দেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের একসঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। এই প্রস্তাবের তীব্র সমর্থক হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি ইতিমধ্যেই অ-এনডিএ বিরোধী বিভিন্ন রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবারই তিনি ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন অভিযানের বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জি দেবরাজনের প্রস্তাবকেও সাধুবাদ জানান মমতা এবং রাহুল গান্ধী।

তবে এই রাজনৈতিক ঐক্যের মধ্যেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের বিরোধী নেতারা। বাংলার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে খোঁচা দিয়ে বলেন, “আসলে প্যাঁচে পড়লে তো অনেকেই অনেক কিছু করেন। এখন তো আর তৃণমূল দলটা নেই। যেটা আছে, তিনি যে তৃণমূলের নেত্রী, সেটা প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে।” তবে একই সঙ্গে তিনি এও যোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জিয়ানেশ কুমারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকলেরই একজোট হয়ে দাঁড়ানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে কোনো ‘ইগো’ নেই

সবচেয়ে চর্চিত বিষয় ছিল দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে। এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে জানান, “কংগ্রেসই প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে পারে। এ বিষয়ে আমার কোনও ইগো নেই। তবে যাই হোক, সকলের সর্বসম্মত সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

মমতার এই নমনীয় বার্তার পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়غে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কংগ্রেস দল বা দলীয় নেতৃত্ব কিংবা ক্ষমতার বা কোনো পদের জন্য লড়াই করছে না। তাদের একমাত্র এবং প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।

রাহুলের বার্তা ও ভোট চুরির অভিযোগ
বৈঠকে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের রূপরেখা বোঝাতে গিয়ে কেরলের উদাহরণ টেনে আনেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কেরলে কংগ্রেস ও বামেদের রাজনৈতিক লড়াই যতই থাকুক না কেন, জাতীয় স্তরে দিল্লির লড়াইয়ে তারা সম্পূর্ণ একজোট। জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর দায়বদ্ধতার কথা যেন কোনো দলই ভুলে না যায়, সেই বার্তা দেন তিনি।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় তিনিই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বা ‘বিগেস্ট সাফারার’। মমতার এই ভোট চুরির অভিযোগের সুরেই সুর মেলান বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব। রাহুল গান্ধীও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, বিরোধী দলগুলি তো বটেই, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।

দল ভাঙানোর চক্রান্ত ও বিরোধীদের হুংকার
বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরানোর চেষ্টার তীব্র সমালোচনা শোনা যায় অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর গলাতেও। শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “আমার পার্টির সঙ্গে যেভাবে চক্রান্ত করে দল ভাঙা হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন তৃণমূলের সঙ্গেও সেটাই করা হচ্ছে।” পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন জম্মু ও কাশ্মীরের নেতা ওমর আব্দুল্লা। পুরো পরিস্থিতি বিচার করে সমাজবাদী পার্টির নেতা হরেন্দ্র মালিক জানান, বিরোধী ঐক্যকে আরও বেশি পোক্ত ও শক্তিশালী করতে এবার কংগ্রেসকেই মূল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *