৯/১১-র আতঙ্ক আকাশে! ককপিটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভারতীয় পাইলটের অবিশ্বাস্য সাহসিকতায় রক্ষা পেল ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ

মাঝআকাশে এক ভয়াবহ ও রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আভিভগামী বিমান FZ1073। দুবাই থেকে ওড়ার পর বিমানটির ককপিটের ভিতরেই কো-পাইলটের নির্মম আক্রমণের শিকার হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে ৯/১১-র হামলার তুলনা টেনেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে শত বিপদের মধ্যেও ভারতীয় পাইলটের অসামান্য প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং সাহসিকতার জেরে বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং এবং যাত্রীদের বিবরণ থেকে জানা গিয়েছে, দুবাই থেকে উড়ে যাওয়ার পর প্রথম আড়াই ঘণ্টা যাত্রা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এরপরই ককপিটের ভিতরে ওমানের নাগরিক ওই কো-পাইলট হঠাৎই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ওপর হামলা চালান। অভিযোগ, বিমানটি ক্র্যাশ করানোর উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছিল। হামলায় ক্যাপ্টেনের মাথা ও হাত মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে।

এই চরম সঙ্কটের মধ্যেও বিমানটি নাটকীয়ভাবে উচ্চতা হারাতে শুরু করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ১৪,০ হাজার ফুটের বেশি নীচে নেমে যায় এবং ককপিটের ভেতরে আপৎকালীন সঙ্কেত (৭৭০০ ও ৭৫০০) বাজতে থাকে।

শেষ শক্তিতে দরজা খুলে বীরত্ব স্মিত মচ্ছারের
গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও হার মানেননি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। নিজের জীবনের পরোয়া না করে তিনি তাঁর “শক্তির শেষ মুহূর্ত” কাজে লাগিয়ে লক থাকা ককপিটের দরজা খুলে দেন। আর এই একটিমাত্র সিদ্ধান্তই সমস্ত যাত্রীদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়। দরজা খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেবিনের সামনের দিকে থাকা যাত্রীরা ও অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকে পড়েন। যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন সহ অন্যান্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীকে কাবু করে চোকহোল্ডে আটকে রাখেন।

এরপর বিমানে উপস্থিত অতিরিক্ত পাইলট ও ক্রু সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করান।

বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার
গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

এই অবিশ্বাস্য সাহসিকতার জন্য ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে স্যালুট জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর এই বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে এক্স (X)-এ পোস্ট করে জানান, চরম বিপদের মুখেও তাঁর অসীম সাহস ও অটুট সঙ্কল্প শত শত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে এবং ভারত তাঁকে নিয়ে গর্বিত।

সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে মাঝআকাশে এক ভারতীয় পাইলটের এমন রক্তক্ষয়ী লড়াই ও সাহসিকতা যে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য নজির গড়ে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *