বাচ্চাদের খেলনা থেকে ওয়াই-ফাই ক্যামেরা! অজান্তেই ঘরের সব গোপনীয়তা লিক করে দিচ্ছে না তো আপনার এই ডিভাইসগুলো?

স্মার্ট টিভি, ওয়াই-ফাই রাউটার, বেবি মনিটর, স্মার্ট ডোরবেল কিংবা রোবট ভ্যাকুয়াম—আজকের দিনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করে তুলতে এসব প্রযুক্তির জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে ডিভাইসগুলো আপনার সুবিধা বাড়াচ্ছে, তারাই আবার আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে?

ইন্টারনেট-সংযুক্ত এই গ্যাজেটগুলো প্রায়শই আপনার অজান্তেই কণ্ঠস্বর, ছবি, লাইভ লোকেশন এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের মতো সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ করতে শুরু করে। প্রশ্ন হলো, বাড়ির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা এই ডিভাইসগুলোর দুর্বল নিরাপত্তা কি আমাদের বড় কোনো বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে?

শিশুদের স্মার্ট খেলনাও চাচ্ছে বিপজ্জনক অনুমতি

বিপদের পরিধি কেবল স্মার্ট টিভি বা রাউটারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর জাল ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের শিশুদের খেলনা পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন এআই (AI) চালিত স্মার্ট খেলনার অ্যাপগুলোও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও সংবেদনশীল তথ্য দাবি করছে।

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাইবারনিউজ’ ২০২৬ সালের জুনে শিশুদের ১০টি এআই খেলনার অ্যাপ নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা চালায়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে:

  • গবেষণা করা ১০টি অ্যাপেরই সঠিক অবস্থানের (Location) তথ্য প্রয়োজন হয়েছিল।

  • এর মধ্যে ৬টি অ্যাপ মাইক্রোফোনের এবং ৫টি অ্যাপ ক্যামেরার অনুমতি নিয়েছিল।

  • ৭টি অ্যাপে বিভিন্ন ধরনের ট্র্যাকার সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

  • বিশেষ করে ‘মিকো’ (Miko) অ্যাপে সর্বোচ্চ ৯ ধরনের অনুমতি এবং ৮টি ট্র্যাকার পাওয়া গেছে। এমনকি একটি অ্যাপ বন্ধ করার পরেও ব্যবহারকারীর লোকেশন ট্র্যাক করে যাচ্ছিল।

ডিজিটাল গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞ অভিষেক নিগম জানাচ্ছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি গুরুতর। কারণ শিশুরা নিজেরাও বুঝতে পারে না যে তারা অজান্তেই কী পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে শেয়ার করে ফেলছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই গ্যাজেটগুলো এখন সহজেই আমাদের ব্যক্তিগত কথোপকথন এবং গোপনীয় মুহূর্তের ছবি সংগ্রহ করে নিতে পারে।

নিরাপত্তার ক্যামেরা নিজেই যখন বড় হুমকি

স্মার্ট ডিভাইসের ঝুঁকির বাস্তব প্রমাণ মিলছে চারপাশে। সম্প্রতি আহমেদাবাদের একটি পরিবার তাদের সন্তানের ওপর নজরদারির জন্য বাড়িতে একটি ওয়াই-ফাই যুক্ত ক্যামেরা ইনস্টল করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, সেই ক্যামেরার লাইভ ফিড বা ছবি অন্য একটি অজানা ফোনেও দেখা যাচ্ছে!

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই ভারতে এ ধরনের হাজার হাজার ইন্টারনেট ক্যামেরা শনাক্ত করেছেন, যেগুলো অনলাইনে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সহজেই সাইবার অপরাধীদের অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। তাই ঘরের নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে অজান্তেই বড় কোনো ফাঁদে পা দিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *