জামাকাপড় কিনতে গিয়ে চরম হেনস্থা! দোকানেই অভিযুক্ত কর্মীকে বেধড়ক চড়-থাপ্পড় মহিলার, ভাইরাল ভিডিও

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে শপিং করতে গিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার শিকার হলেন এক মহিলা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জামাকাপড় কিনতে গিয়ে দোকানেরই এক কর্মীর অভব্য আচরণের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু অপমান সহ্য করে চুপ করে থাকেননি ওই মহিলা ও তাঁর পরিবার। সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে উল্টে অভিযুক্ত কর্মীকে হাতেনাতে পাকড়াও করে দোকানেই বেধড়ক চড়-থাপ্পড় মারেন তাঁরা। বর্তমানে সেই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল জুনাগড়ে?
ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের জুনাগড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুনাগড়ের ব্যস্ততম মঙ্গনাথ রোডে অবস্থিত ‘দুলহন’ নামের একটি কাপড়ের দোকানে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। অভিযোগ, সেই সময়ই দোকানের এক কর্মী ওয়াসিম ইব্রাহিম সিদা তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও অভব্য আচরণ করেন।

তবে হেনস্থার শিকার হওয়ার পর দমে যাননি ওই মহিলা। তিনি এবং তাঁর পরিবারের আরও এক মহিলা মিলে সাহসিকতার সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর পরিবারের আরেক মহিলা রাগের চোটে অভিযুক্ত কর্মীকে দোকানে উপস্থিত অন্যান্য ক্রেতা ও কর্মীদের সামনেই নাগাড়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। মহিলার এই ক্ষিপ্ত রূপ এবং মারধরের সেই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা হু হু করে ভাইরাল হয়ে যায়।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের পদক্ষেপ
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও দেখে নেটিজেনদের একটা বড় অংশ অভিযুক্ত কর্মীর এই আচহারের তীব্র নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি, মহিলারা যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ‘উচিত শিক্ষা’ দিয়েছেন, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘যেমন কর্ম, তেমন ফল!’

শুধু দোকানে মারধর করেই ক্ষান্ত হননি ওই মহিলা। ঘটনার পর তিনি সোজা স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সামনেই নবরাত্রি ও দীপাবলির মতো বড় উৎসব থাকায় এই মুহূর্তে শপিং মল ও কাপড়ের বাজারগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের দোকানে ক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজার এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *