কোটিপতি বাবাকে খুনে অভিযুক্ত ছেলে! জেলের সিকে ছিঁড়লেও কি মিলবে না সম্পত্তি? আইনি জট নিয়ে শোরগোল

কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা হত্যা মামলা নিয়ে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে চাঞ্চল্য অব্যাহত রয়েছে। ২১ দিন জেল খেটে পুত্রবধূ শালু জামিনে মুক্তি পেলেও, হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ছেলে সুব্রত মিনোচা এখনও কারাগারেই দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশি জেরায় তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলেও খবর। তবে এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি জোরালো হয়ে উঠেছে— তা হল, নিহত ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারী শেষ পর্যন্ত কে হবেন?

ষাট-সত্তর কোটির বিশাল সাম্রাজ্য ও আইনি জটিলতা:
কানপুরের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ছিলেন বিনীত মিনোচা। তাঁর ওষুধের ব্যবসার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার কাছাকাছি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, খুনের ঘটনায় ছেলে সুব্রত যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির ভাগীদার কে হবেন? শালু নাকি তাঁর পাঁচ বছরের শিশুপুত্র— কার হাতে যাবে এই বিশাল সাম্রাজ্য? আর সুব্রত যদি শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারে খালাস পান, তবে গোটা পরিস্থিতির সমীকরণ কেমন হবে?

কী বলছে ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হলেই পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার রাতারাতি শেষ হয়ে যায় না। তবে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মৃত ব্যক্তিকে হত্যা করেন বা হত্যায় সাহায্য করেন, তবে তিনি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া ২৭ ধারা অনুযায়ী, এমন ব্যক্তির উত্তরাধিকারের হিসেব এমনভাবে করা হবে যেন তিনি ওই ব্যক্তির মৃত্যুর আগেই মারা গেছেন। অর্থাৎ, সুব্রত মিনোচা যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তিনি বাবার সম্পত্তির এক তিলও পাবেন না।

প্রবীণ আইনজীবী তথা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি দীনেশ শুক্লার মতে, সুব্রত দোষী সাব্যস্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সম্পত্তির অধিকার হারাবেন। তবে তিনি খালাস পেলে আইনসম্মতভাবে বা বিনীতের কোনো বৈধ উইল থাকলে সেই অনুযায়ী সম্পত্তির ফয়সালা হবে। অন্যদিকে, শালু নিহত ব্যবসায়ীর পুত্রবধূ হওয়ায় তিনি সরাসরি উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হবেন না। তবে তাঁর পাঁচ বছর বয়সি সন্তানের অধিকার নির্ভর করবে সম্পত্তির প্রকৃতি এবং আইনি ব্যাখ্যার ওপর।

শালুর আইনজীবী শিবকান্ত দীক্ষিতের দাবি, এই মুহূর্তে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে। সুব্রত দোষী সাব্যস্ত হলেও উচ্চ আদালতে আপিল করার পূর্ণ আইনি অধিকার তাঁর থাকবে। সব মিলিয়ে, ৭০ কোটি টাকার সাম্রাজ্যের দখল নিয়ে এই পারিবারিক ও আইনি লড়াই এখন কানপুরবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *