উত্তরবঙ্গ থেকে গুয়াহাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টায়! ৬১ হাজার কোটির মেগা হাইওয়েতে বদলে যাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে এক বিরাট পরিকাঠামোগত উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। শিলিগুড়ি, গুয়াহাটি এবং শিলংকে সড়কপথে সরাসরি সংযুক্ত করতে প্রায় ৬৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি হাইওয়ে করিডর তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১,৫০০ কোটি টাকা, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে।

প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ শিলিগুড়ি-গুয়াহাটি অংশ তৈরির কাজ শুরু হবে। এই নির্দিষ্ট অংশটির পেছনে আনুমানিক ৩০,০০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই অংশের অ্যালাইনমেন্ট বা রুট অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গ্রিনফিল্ড রুটের পাশাপাশি আপগ্রেড হবে পুরনো হাইওয়ে
শুধুমাত্র নতুন রুট তৈরিই নয়, প্রস্তাবিত এই পুরো করিডরে নতুন গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি একাধিক পুরোনো হাইওয়েকেও আধুনিক মানে উন্নীত করা হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অসম এবং গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের সড়ক যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জোরাবাট-বারাপানি গ্রিনফিল্ড রুট এবং ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ শিলং-শিলচর গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন এই রুটগুলি চালু হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে যাতায়াত আগের তুলনায় অনেক বেশি মসৃণ ও দ্রুততর হবে।

বাড়বে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের গতি
প্রস্তাবিত এই হাইওয়ে করিডর পুরোপুরি চালু হলে উত্তরবঙ্গ থেকে অসম, মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে অভূতপূর্ব গতি আসবে। এর জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুগান্তকারী প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ হলো শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’। ফলে, এই মেগা করিডর শুধুমাত্র একটি সড়ক পরিবহণ প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *