নয় নয় করে ১০ বছর পার! দেশের সেরা ৫ ওটিটির একটি হয়ে কীভাবে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে ‘হইচই’?

দেখতে দেখতে দেখতে দেখতে নয় নয় করে প্রতিষ্ঠার দশ বছর পূর্ণ করতে চলেছে জনপ্রিয় বাঙালি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’ (Hoichoi)। বাংলা তথা ভারতের ওটিটি বাজারের প্রথম সারির এই প্ল্যাটফর্মটি আজ নিজের জায়গা শক্ত করে নিয়েছে। শুরুর দিনগুলির পথচলা থেকে বর্তমান পরিস্থিতি—সবকিছুতেই এসেছে বিরাট পরিবর্তন। আর আগামী দিনে এই অগ্রযাত্রাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে টিম হইচই। যার মধ্যে যেমন রয়েছে একের পর এক জমজমাট ওয়েব সিরিজ, তেমনই রয়েছে নিজস্ব প্রোডাকশনে নতুন ফিচার ফিল্ম তৈরির বড়সড় উদ্যোগ। সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন হইচইয়ের সিওও (COO) সৌম্য মুখোপাধ্যায়।

কোন মন্ত্রবলে হইচইয়ের এই বাজিমাত?
সাফল্যের রহস্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের সাফ উত্তর, “মূল চাবিকাঠি হল কনটেন্ট।” তাঁর দাবি, গত দুই-তিন বছরে ওটিটির বাজার কিছুটা মন্থর বা অপরিবর্তনশীল থাকলেও, বাংলার এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্ট বৃদ্ধির হার বেশ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ভারতের প্রথম পাঁচটি ওটিটির তালিকার মধ্যে পাকা জায়গা করে নিয়েছে হইচই।

শুধু ভারতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও তাঁদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা এবং লন্ডনের মতো দেশের প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও হইচইয়ের সাবস্ক্রাইবার বা ব্যবহারকারী প্রচুর। এমনকি এখানকার জনপ্রিয় গল্পগুলি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় ডাব করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের ব্যবসায়িক আয় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

টেলিভিশন দর্শক টানতে নতুন উদ্যোগ ও ফিচার ফিল্ম
টিভি দর্শকদের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি হইচই নিয়ে এসেছে ‘টিভি প্লাস’ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে এপিসোড ভিত্তিক নতুন কনটেন্ট সম্প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দর্শকদের বিনোদনের খাতিরে নন-ফিকশন কনটেন্টের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবার নিজস্ব প্রোডাকশন হাউসের আদলে তৈরি হয়েছে ‘হইচই স্টুডিওস’, যার মাধ্যমে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার ফিল্ম তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরেই তাদের চারটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বড় সম্পদ বলে জানিয়েছেন সৌম্য মুখোপাধ্যায়। এর বাইরেও আসছে একেবারে ভিন্ন স্বাদের ২২টি নতুন ওয়েব স্টোরি।

দশ বছরে কী পরিকল্পনা?
আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে হইচইয়ের সিওও স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালিদের জন্য বিনোদনের একমাত্র প্রথম পছন্দের ঠিকানা হোক এই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম—এই একটাই মাত্র লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করে চলেছে গোটা টিম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *