মাঝআকাশে হাইজ্যাক দুবাই-ইজরায়েল ফ্লাইট? দুই পাইলটের হাতাহাতিতে বিরাট চাঞ্চল্য!

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাই দুবাই’ (Flydubai)-এর একটি যাত্রীবাহী বিমানকে ঘিরে বুধবার বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিমানটি হাইজ্যাক বা ছিনতাই করা হয়েছে কি না, সেই নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। কারণ, ওই উড়ান থেকে দুটি ইমারজেন্সি বা জরুরি কোড পাঠানো হয়েছিল, যার একটি সরাসরি বিমান হাইজ্যাক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জানা যায়, হাইজ্যাক নয়, বরং অন্য এক অভাবনীয় কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

হাইজ্যাকের আশঙ্কা ও ফাইটার জেটের প্রস্তুতি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দুবাই থেকে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি তেল আভিভের দিকে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথেই সেটির রুট ঘুরিয়ে সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটি ট্রান্সপোর্ডার কোড ‘৭৫০০’ তে পরিবর্তন করার আগেই বিপদবার্তা পাঠিয়েছিল, যা বিমান ছিনতাইয়ের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এই খবর চাউর হতেই নড়েচড়ে বসে ইজরায়েল। সম্ভাব্য হাইজ্যাকের খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ফাইটার জেট প্রস্তুত রাখে ইজরায়েলি সেনা। গোটা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নজর রাখেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের সঙ্গে তিনি একটি জরুরি বৈঠকেও বসেন।

অবশেষে সামনে এল আসল সত্য তীব্র আতঙ্কের মধ্যেই বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক এয়ারপোর্টে নিরাপদে ল্যান্ড করে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়, বিমান হাইজ্যাকের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সকল যাত্রী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন।

তবে কেন ওই জরুরি সঙ্কেত পাঠানো হয়েছিল? রয়টার্সকে দেওয়া এক ইজরায়েলি আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, পাইলটরা নিজেদের মধ্যে ককপিটের ভেতরেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার জেরে ওই ইমারজেন্সি অ্যালার্ট পাঠানো হয়েছিল। যদিও ফ্লাই দুবাই সংস্থার পক্ষ থেকে হাতাহাতির বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খোলা হয়নি। একটি বিবৃতিতে তারা কেবল জানিয়েছে, উড়ানটি সম্পূর্ণ নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীরা সুরক্ষিত আছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *