হুমায়ুন কবীরের চরম মন্তব্যে তুলকালাম! দুর্গাপুরে জুতার মালা পরিয়ে কুশপুতুল কবর দিল বিজেপি

রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে ফের একবার চরমে উঠল শাসক ও বিরোধীদের সংঘাত। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন সময়ের নানা প্রসঙ্গ টেনে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনার অভিযোগ ওঠে। আর সেই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবার অভিনব ও কড়া পদক্ষেপ করল ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা। দুর্গাপুরের রাজপথে খাটিয়ায় করে কুশপুতুল নিয়ে এসে তা কবর দিল বিজেপি কর্মীরা।
কী ঘটেছিল দুর্গাপুরে? মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে বিজেপি যুব মোর্চা। হাতে কালো পতাকা নিয়ে এবং খাটিয়ায় হুমায়ুন কবীরের কুশপুতুল চাপিয়ে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। এরপর সেই কুশপুতুলটিতে জুতোর মালা পরিয়ে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কবর দেওয়া হয়।
দুর্গাপুর বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শুভম সিং এই কর্মসূচির প্রসঙ্গে বলেন, “রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কও হতে পারে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আমরা হুমায়ুন কবীরের কঠোর শাস্তি চাই এবং তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি তা না হয়, তবে আগামী দিনে এর বিরুদ্ধে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর? গত রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেখানে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই বৈঠকে বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ক্ষমতা পেয়ে হাতির পাঁচ পা দেখেছে! উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব, যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যায়। আল্লাহ যেন তাঁর টিকিট কাটিয়ে দিক।” এরপর ইন্দিরা গান্ধি, রাজীব গান্ধি কিংবা মহারাষ্ট্রের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি আরও বলেন যে অহংকার ও আস্ফালনের পতন ঠিক এভাবেই হয়।
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল শুরু হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিধায়ক যদি তাঁর এই বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান, তবে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে যেখানেই তাঁকে দেখা যাবে, সেখানেই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হবে।