জাতীয় সড়কই এবার রানওয়ে! পাক সীমান্তে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তিতে কপ্টার নামিয়ে মহাশক্তিপ্রদর্শন সেনার

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের একেবারে কাছে জাতীয় সড়ককেই বানিয়ে ফেলা হলো অস্থায়ী হেলিপ্যাড! মঙ্গলবার রাজস্থানের দান্তোরের কাছে ৯১১ নম্বর জাতীয় সড়কে এক রুদ্ধশ্বাস সামরিক মহড়ার সাক্ষী থাকল দেশ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীর জওয়ানরা এদিন সাধারণ সড়কপথেই একাধিক যুদ্ধহেলিকপ্টার সফলভাবে অবতরণ এবং টেক-অফ করিয়ে নতুন নজির গড়লেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর ও গর্বের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশকপূর্তি ও সেনার বিশেষ মহড়া প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে উরির সেনা ঘাঁটিতে কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। ঠিক তার পরই তৎকালীন সময়ে (২৮-২৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে নিখুঁত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছিল ভারত। ভারতীয় সেনার সেই ঐতিহাসিক ও রোমহর্ষক সাফল্যের ঠিক ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষেই এই বিশেষ সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল।
কোথায় ও কীভাবে চলল মহড়া? এদিন পশ্চিম রাজস্থানের দান্তোরের মরুভূমি অঞ্চলের ৯১১ নম্বর জাতীয় সড়কের বাছাই করা অংশে নামে সেনার কপ্টার। বিরাট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সীমান্ত অঞ্চলে বিমান চলাচলের স্থায়ী পরিকাঠামো সীমিত থাকায় জরুরি অনুশীলনের জন্য এই জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়। মহড়ায় অংশ নেয় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ‘ধ্রুব’, তার সশস্ত্র সংস্করণ ‘রুদ্র’ এবং ফরাসি আলোওয়েট ৩ ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘চেতক’ কপ্টার।
যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে যদি দেশের কোনো এয়ারবেস, এয়ারফিল্ড বা মূল হেলিপ্যাড শত্রুঘাঁটির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তবে বিকল্প হিসেবে কীভাবে জাতীয় সড়ককে কাজে লাগানো যেতে পারে, সেনার পাইলট ও গ্রাউন্ড টিম নিখুঁতভাবে তারই মহড়া চালায়। পাক সীমান্তের দোরগোড়ায় ভারতের এই কড়া বার্তা ও মহড়ার ছবি এখন গোটা দেশের নজর কেড়েছে।