মাত্র ৬০ টাকার চাকরি থেকে সোজা জাতীয় পুরস্কার! হরিয়ানার এই শিক্ষিকার লড়াই চোখ ভিজিয়ে দেবে

জীবনে হাজারো বাধা এলেও যারা হার না মেনে সেগুলোকে সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করেন, তাঁরাই প্রকৃত জয়ী। হরিয়ানার শিক্ষক সুমন গোয়েলের জীবনযুদ্ধ যেন তেমনই এক রূপকথার গল্প। চরম দারিদ্র্য, পরিবারের বিরোধিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ তিনি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে ‘জাতীয় বর্ষসেরা শিক্ষক ২০২৬’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
পরিবারের অমতে লড়াই ও ৬০ টাকার চাকরি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তুখোড় সুমন বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, দশম শ্রেণির পরেই তাঁর পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন তিনি নন। নিজে টিউশন পড়িয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে পরিবার দিল্লিতে চলে আসার পর একটি সরকারি স্কুলে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। সেই সময় তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬০ টাকা! ওই সামান্য টাকা দিয়েই তিনি কলেজ জীবনের পড়াশোনা এবং লড়াই চালিয়ে যান।
বিয়ে ও জীবনের কঠিন পরীক্ষা জীবনের এই কঠিন সংগ্রামের মাঝেই তাঁর বিয়ে হয়। ঠিক সেই সময়ই তাঁর বাবা-মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান। জীবনের এই আকস্মিক ধাক্কায় ভেঙে পড়লেও তিনি হাল ছাড়েননি। স্বামীর উৎসাহ ও নিজের অদম্য জেদের জোরে তিনি অবশেষে সেই একই স্কুলে স্থায়ী শিক্ষিকার চাকরি পান। বিগত দুই দশক ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ওই স্কুলেই শিক্ষকতা করে চলেছেন।
গণিতের ভয় দূর করার জাদুকরী উপায় শিক্ষার্থী জীবনে অঙ্ক নিয়ে শিশুদের ভয় কাটাতে এক অনন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করেছেন সুমন ম্যাডাম। বিশেষ ‘গণিত কিট’ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এমন এক সহজ উপায় তৈরি করেছেন, যাতে কচিকাঁচারা এখন খুব সহজেই আনন্দের সঙ্গে গণিত শিখে ফেলছে। শুধু স্কুলেই নয়, সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিয়মিত শীতবস্ত্র ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এর আগে হরিয়ানা রাজ্য সরকারও তাঁর এই অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে সেরা শিক্ষকের সম্মান জানিয়েছিল। এবার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় শিক্ষক সম্মান পাওয়ার পর সুমনের এই অনুপম লড়াইয়ের গল্পটি এখন গোটা দেশের অনুপ্রেরণা।