লোন গ্রহীতাদের মাথায় হাত! বাড়ি ও গাড়ির ইএমআই বাড়াতে চলেছে আরবিআই? বড় ধাক্কার পূর্বাভাস

রমরমে উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই সাধারণ মানুষের জন্য একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে এল অর্থনৈতিক পূর্বাভাস। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া দামের জেরে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবার নীতিগত সুদের হার বা রেপো রেট বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। জাপানি ব্রোকারেজ ফার্ম নোমুরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসের ত্রৈমাসিকে মোট ০.৫০ শতাংশ পর্যন্ত রেপো রেট বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর ফলে সাধারণ মানুষের হোম লোন, পার্সোনাল লোন এবং অটো লোনের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই আরও অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে চলেছে।
কেন এই সুদের হার বৃদ্ধি? দীর্ঘদিন ধরে আরবিআই তাদের পলিসি রেট অপরিবর্তিত রেখেছিল এবং এর আগে সুদের হার কিছুটা কমানোর স্বস্তিও দিয়েছিল। কিন্তু নোমুরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে সুদের হার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
-
সংস্থাটির অনুমান, আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে নীতি পর্যালোচনায় প্রতিবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।
-
এর ফলে দেশের টার্মিনাল রেপো রেট গিয়ে পৌঁছাতে পারে ৫.৭৫ শতাংশে।
-
তবে ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের পর খরচ কমা ও চাহিদায় ভাটা পড়ার কারণে সুদের হার বৃদ্ধির এই চক্র ধিমে তালে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্রুত বাড়ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নোমুরার রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে খাদ্যদ্রব্যের চড়া দামই মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সবথেকে বড় কারণ। বিশেষ করে কম বৃষ্টিপাত এবং খরিফ ফসলের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা খুচরা বাজারে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী করে রেখেছে। যদিও সরকার পেঁয়াজ ও চিনির মতো পণ্যের ক্ষেত্রে স্টক লিমিটের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, তবুও সামগ্রিক উৎপাদন কম থাকায় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকেই যাচ্ছে। এমতাবস্থায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে আরবিআই কঠোর আর্থিক নীতির পথ বেছে নিতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।