নাবালিকাকে অশ্লীল ভিডিয়ো দেখিয়ে কদর্য নির্যাতন! কাঁকসায় নাবালক-সহ গ্রেফতার ৩, চাঞ্চল্য

প্রথমে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিয়ো দেখিয়ে উত্ত্যক্ত করা এবং পরবর্তীতে সেই নাবালিকাকে দলবেঁধে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগে চরম চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থানা এলাকায়। এই নৃশংস ঘটনার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই যুবক ও এক নাবালক সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্গাপুর মহকুমায় পরপর এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের কপালেও চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসা এলাকার এক নাবালিকাকে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে নানা উপায়ে উত্যক্ত করত। অভিযোগ, তাকে প্রথমে জোর করে একাধিক অশ্লীল ভিডিয়ো দেখানো হয়। এরপর সেই অবস্থাতেই তার উপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্তে নামে কাঁকসা থানার পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। ধৃতদের মধ্যে দু’জন বীরভূমের বোলপুরের বাসিন্দা শেখ আলতাফ ওরফে ইরফান এবং কাঁকসার আমির মল্লিক। তৃতীয় অভিযুক্তের বয়স কম হওয়ায় তাকে জুভেনাইল বা কিশোর আদালতে পেশ করা হয়েছে।
তদন্ত ও ফরেন্সিক পরীক্ষার প্রস্তুতি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পিছনে সুনির্দিষ্ট কী উদ্দেশ্য ছিল এবং অভিযুক্তদের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার কোনো ডিজিটাল প্রমাণ বা মোবাইল ফোন মারফত কোনো আপত্তিকর তথ্য আদান-প্রদান হয়েছিল কি না, তা জানতে ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হতে পারে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ড. প্রণব কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবার অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে। দুর্গাপুর এলাকায় পরপর এই ধরনের অসামাজিক ও অপরাধমূলক ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।