এমপি-বিধায়কদের কথা শুনতেই হবে! চার ঘণ্টার বৈঠকে নতুন নেতাদের কী গোপন টাস্ক দিলেন নিতিন নবীন?

সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে এবং সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় আরও নিবিড় করতে নড়েচড়ে বসল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। সম্প্রতি রাজ্য ইনচার্জ ও কো-ইনচার্জদের নতুন তালিকা প্রকাশের পর মঙ্গলবার দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৪ ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। দলের নতুন সভাপতি নিতিন নবীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে সমস্ত ইনচার্জ ও কো-ইনচার্জদের নিজ নিজ রাজ্যের সাংসদ, বিধায়ক এবং সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের মূল বার্তা ও নির্দেশিকা সাম্প্রতিক সাংগঠনিক নিয়োগের পর এটিই ছিল ইনচার্জ ও কো-ইনচার্জদের প্রথম বড় বৈঠক। বৈঠকে মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে:
-
মাঠ পর্যায়ে নজরদারি: ইনচার্জদের শুধু রাজধানীতে বসে থাকলে চলবে না, নিয়মিত সংশ্লিষ্ট রাজ্যে গিয়ে বুথ স্তরে সভা করতে হবে এবং যুবসমাজসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
-
সমন্বয় সাধন: সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে যদি কোথাও কোনো মতপার্থক্য বা দূরত্ব তৈরি হয়, তবে তা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলতে হবে।
-
নিয়মিত ফিডব্যাক: ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দলীয় কর্মসূচি সঠিকভাবে রূপায়ণ হচ্ছে কি না এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে দলের বার্তা কেমনভাবে পৌঁছাচ্ছে, তার নিয়মিত রিপোর্ট হাইকমান্ডকে জমা দিতে হবে।
কোন হেভিওয়েট নেতার কাঁধে কোন রাজ্যের দায়িত্ব? গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিজেপির তরফ থেকে ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নতুন ইনচার্জ এবং কো-ইনচার্জদের নাম ঘোষণা করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনে হেভিওয়েট নেতাদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে:
-
উত্তর প্রদেশ: বিনোদ তাওড়ে (চারজন কো-ইনচার্জসহ)।
-
পাঞ্জাব: সতীশ পুনিয়া।
-
উত্তরাখণ্ড ও তামিলনাড়ু: রাম মাধব।
-
হরিয়ানা ও ছত্তিশগড়: স্মৃতি ইরানি।
-
পশ্চিমবঙ্গ ও তেলেঙ্গানা: সুনীল বানসাল।
-
দিল্লি: বিনয় সহস্রবুদ্ধে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনগুলিকে সামনে রেখেই বিজেপি এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। নতুন এই টিম কতটা সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।