বারবার নিষেধ সত্ত্বেও নিষিদ্ধ কীটনাশক প্রয়োগ! জলপাইগুড়িতে সরাসরি সিল করে দেওয়া হল দুটি চা-বাগান

বারবার সতর্ক করার পরেও কিছুতেই টনক নড়ছিল না। শেষ পর্যন্ত নির্দেশ অমান্য করে চা গাছে নিষিদ্ধ কীটনাশক প্রয়োগ করার অভিযোগে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিলেন স্থানীয় চা-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। নিষিদ্ধ ‘মনোসিল’ কীটনাশক ব্যবহারের দায়ে জলপাইগুড়ি জেলার দুটি চা-বাগান এক বছরের জন্য সিল করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

চা-বিক্রিতে মন্দা ও বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলির কড়াকড়ি

সম্প্রতি চা পাতায় নিষিদ্ধ কীটনাশক মেলার কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছিল উত্তরবঙ্গের বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলি। বিদেশের বাজারে মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উত্তরবঙ্গের ২৭৪টি বটলিফ ফ্যাক্টরি ক্ষুদ্র চা-শ্রমিকদের কাছ থেকে কাঁচা চা-পাতা নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। এমআরএল (MRL) রিপোর্ট ছাড়া এক ফোঁটাও চা-পাতা নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জলপাইগুড়ির সাংসদের মধ্যস্থতায় পূর্বে দফায় দফায় বৈঠক করেও এই প্রবণতা সম্পূর্ণ রোখা যায়নি। আর সেই কারণেই এবার নিজেরা কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন ক্ষুদ্র চা-শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঠিক কী ঘটেছে ময়নাগুড়িতে?

ময়নাগুড়ির দোমহনি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চা-শ্রমিক সুশীল বিশ্বাসের চা-বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক দেওয়ার অভিযোগ উঠতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় চা-ব্যবসায়ীরা। শাস্তিস্বরূপ আগামী তিন মাসের জন্য তাঁর বাগান থেকে চা-পাতা তোলা ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আরেক চা-শ্রমিক অম্বুজ সরকারের বিরুদ্ধেও। তিনি নিজের বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক স্প্রে করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যান। সংগঠনের কড়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বাগানটিও সিল করে দেওয়া হয়েছে।

নর্থ বেঙ্গল টি প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় ধানুটি ইটিভি ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা বারবার বলছিলাম যে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বিদেশে চা রিজেক্ট হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা নিজেদের ভালোর জন্যই আজ এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত চা-শ্রমিক সুশীল বিশ্বাসের দাবি, তাঁর অজান্তেই এবং বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতিতে কর্মীরা ওই কীটনাশক স্প্রে করেছিলেন। তবে গোটা ঘটনায় জলপাইগুড়ি জেলা কৃষি দফতর ও ক্ষুদ্র চা শ্রমিক সমিতি যৌথভাবে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং নিষিদ্ধ কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *