মদ্যপান না করলেও লিভার নষ্ট হচ্ছে! অজান্তেই কোন মারাত্মক ভুলগুলো করছেন? জানুন চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দানা বাঁধছে। অনেকেরই এই বিষয়ে একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপান করলেই কেবল লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। যাঁরা এক ফোঁটাও অ্যালকোহল খান না, তাঁরাও নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের শিকার হতে পারেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোটখাটো অথচ ক্ষতিকর অভ্যাস নীরবে আমাদের যকৃৎ বা লিভারকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।
কোন দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো লিভারের জন্য বিপজ্জনক?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বেশ কিছু ভুল অভ্যাসও লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
-
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস: সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া এবং অতিরিক্ত মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
-
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অলস জীবনযাপন: দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করার ফলে শরীরে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে।
-
পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র ওষুধ সেবন: সামান্য সর্দি-কাশি, মাথা ব্যথা বা ছোটখাটো শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মুঠো মুঠো পেইন কিলার বা অন্যান্য ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস লিভারের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় রাখলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ ও বিপদ
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্থূলতা, খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রায়শই সাধারণ হজমের গোলমালের সঙ্গে মিলে যায়, ফলে অনেকেই শুরুতে একে গুরুত্ব দেন না। পরবর্তীতে যা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।
সুস্থ লিভার পেতে কী করবেন?
লিভারকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে হলে সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ফাস্টফুড বর্জন করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিদিনের রুটিনে অন্তত কিছুটা সময় ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস রাখতে হবে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থেকে সচল থাকুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে নিজের শরীরের যত্ন নিন।