প্লেনে ওঠার আগে মারাত্মক সাবধান! ভারতের ৯৬টি বিমানে হঠাৎ বড় বিপদের আশঙ্কা, বিরাট আতঙ্কের সৃষ্টি

বিমান প্রস্তুতকারী বহুজাতিক সংস্থা বোয়িংয়ের জনপ্রিয় ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ (Boeing 737 MAX) মডেলের বিমানগুলিকে ঘিরে ফের একবার বড়সড় নিরাপত্তা সংকট ও শোরগোল শুরু হয়েছে। বিমানের নতুন একটি সফটওয়্যার ত্রুটির সন্ধান মেলায় সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতে চলাচলকারী প্রায় ৯৬টি বিমানের ওপর। এর মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ উড়ান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় ৫৩টি এবং আকাসা এয়ারের প্রায় ৪৩টি ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান। বোয়িংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমান অবতরণের একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নির্দেশিকা বা অটোমেশন সিস্টেম কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিমানযাত্রীদের মনে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঠিক কী ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে?

বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ককপিটের একটি বিশেষ সফটওয়্যার আপডেটের পরেই মূলত এই কারিগরি ত্রুটির উৎপত্তি হয়েছে। কোনো কারণে বিমান প্রথম দফায় অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়ে যদি আবার উঁচুতে উঠে নতুন পথ অনুসরণ করে (যা এভিয়েশনের ভাষায় ‘মিসড অ্যাপ্রোচ’ নামে পরিচিত), তবে সেই সংকটজনক মুহূর্তে হঠাৎ করেই স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বোয়িং ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার জানিয়েছেন যে এমন পরিস্থিতিতে বিমানটি ম্যানুয়ালি অর্থাৎ পাইলটদের সরাসরি নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে উড়িয়ে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনা পুরোপুরি সম্ভব। গত মাসেই সমস্ত বিমান সংস্থাকে এই কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা সতর্ক করে জানানো হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পাইলটদের ঠিক কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, তার নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই বিষয়ে আকাসা এয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা বোয়িংয়ের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। তাদের দাবি, এই সংক্রান্ত কোনো জটিলতাই বিমান পরিচালনার নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলেনি এবং তাদের সমস্ত বিমান যথাযথ সুরক্ষা মান মেনেই চলাচল করছে। যদিও তাদের কোনো বিমানে বাস্তবে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না, তা নিয়ে সংস্থাটি স্পষ্ট কিছু বলেনি। অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং দেশের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)-র পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বোয়িং কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই ত্রুটি পাকাপাকিভাবে দূর করার জন্য একটি স্থায়ী সফটওয়্যার সমাধান তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্বজুড়ে ইতিপূর্বেই নানা কারণে নজরদারিতে থাকা ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের ক্ষেত্রে এই নতুন সফটওয়্যার সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক এভিয়েশন মহলে নতুন করে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো কিছু বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই এই নতুন সফটওয়্যারযুক্ত বিমান নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *