ইন্ডিয়া জোটে বড় ধাক্কা! ৩০ সেপ্টেম্বরের মেগা বৈঠকে থাকছেন না অখিলেশ যাদব?

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী জোটের ছাতা তলায় ফাটল ধরার জল্পনা কি এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে? আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের সবথেকে বড় কৌতূহল—এই মেগা বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক যখন আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তোলপাড়, ঠিক সেই মুহূর্তে অখিলেশ যাদবের এই দূরত্ব তৈরি করা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে সুপ্ত দূরত্বের ফল হিসেবেই কি এই অনুপস্থিতি, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে?
অখিলেশের অনুপস্থিতি ও সমাজবাদী পার্টির সাফাই
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে অখিলেশ যাদব উপস্থিত না থাকলেও, দলের পক্ষ থেকে কোনো সিনিয়র নেতাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির অন্দরমহলের দাবি, উত্তরপ্রদেশের আসন্ন ১০টি আসনের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এখন চরম ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলপ্রধান। তাই দিল্লির এই বৈঠকে তাঁর যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি এবং বিগত নির্বাচনগুলির ফলাফল নিয়ে দুই দলের সম্পর্কে যে বরফ জমছিল, এই দূরত্ব সেই টানাপোড়েনেরই নতুন বহিঃপ্রকাশ।
আপ ও কংগ্রেসের দ্বন্দ্বে বাড়ছে জটিলতা
এদিকে, বিরোধী শিবিরের অন্দরে জটিলতা তৈরি হয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং কংগ্রেসের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও। কমিশন বিরোধী যৌথ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাতে সম্প্রতি আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে আপ শেষ পর্যন্ত অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।
দিল্লির পর পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস এবং আপ একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ার প্রস্তুতি নেওয়ায়, দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি পঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও এক টেবিলে আপের মুখোমুখি বসতে খুব একটা আগ্রহী নয়।
২৯ সেপ্টেম্বরের কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি ও মমতার উপস্থিতি
প্রধান বিরোধী জোটের অন্দরের এই টানাপোড়েন মেটাতে এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পরবর্তী দলীয় কর্মসূচি ও জোটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে আগামীকাল, ২৯ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (CWC)। এই বৈঠকের পরেই ৩০ সেপ্টেম্বর মূল বিরোধী জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মহাজোটের অন্দরে যখন একের পর এক শরিক দলের দূরত্ব ও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসছে, তখন এই বৈঠক থেকে বিরোধী শিবির নতুন কোনো ঐক্যের বার্তা দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।