পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে গণবিক্ষোভ! নিয়ন্ত্রণরেখা ও কাঁটাতারের বেড়া সরানোর দাবিতে উত্তাল PoK

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের একবার বড়সড় গণবিক্ষোভের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং সেখানে থাকা কাঁটাতারের বেড়া পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মন্ধোল গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে অংশ নেন ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে সোমবারের এই বিক্ষোভের জেরে গোটা অঞ্চলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট অবামী অ্যাকশন কমিটির (JKJAAC) নেতা সরদার আমান খানের নেতৃত্বে এই বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক মাস ধরে PoK-তে চলা আন্দোলনগুলির অন্যতম প্রধান মুখ তিনি। এদিনের সমাবেশে আমান খান উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে একাধিক জোরালো প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, সিজফায়ার লাইন তুলে দেওয়া উচিত কি না এবং নিয়ন্ত্রণরেখার কাঁটাতারের বেড়া সরাতে সেখানে বড়োসড়ো ধর্নায় বসা উচিত কি না। পাশাপাশি, পুঞ্চ ও মেন্ধরের সঙ্গে সংযোগকারী ঐতিহাসিক পুরনো যোগাযোগের পথগুলি অবিলম্বে ফের খুলে দেওয়ার জোরালো দাবিও তোলা হয়। সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার জনতা হাত তুলে এই দাবিগুলিতে একশো শতাংশ সমর্থন জানান। এমনকি খুব শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণরেখার ফেন্সিংয়ের কাছে গিয়ে ধর্না শুরু করার হুশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এই সমাবেশ থেকে পাকিস্তান সেনার বিরুদ্ধেও অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারী নেতারা। সরদার আমান খানের দাবি, অতীতে নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় গোলাগুলি শুরু হলে পাকিস্তানি সেনার জওয়ানরা ভয়ে ব্যারাকে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সংকটজনক মুহূর্তে স্থানীয় সাধারণ মানুষই তাঁদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে রক্ষা করেছিলেন। অথচ পরবর্তীতে গত কয়েক মাসের বিভিন্ন আন্দোলনের সময়ে সেই স্থানীয় বাসিন্দাদেরই সেনার রোষানলে পড়তে হয়েছে এবং তাঁদের নিশানা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মন্ধোলের এই বিশাল সমাবেশ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান বৃহত্তর গণআন্দোলনেরই একটি জ্বলন্ত অংশ। এর আগে রাওয়ালাকোটসহ PoK-র একাধিক অংশে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। স্থানীয় নানা সমস্যার পাশাপাশি পাকিস্তানের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি আন্দোলনকারী নেতারা ‘আজাদ কাশ্মীর’ নামটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে এই অঞ্চলকে স্পষ্টতই দখলীকৃত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি তুলেছেন। নিয়ন্ত্রণরেখার ফেন্সিং অপসারণ এবং পুঞ্চ-মেন্ধরের পুরনো রাস্তা চালুর দাবিতে আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *