বোনের ননদের সঙ্গে পরকীয়া! হাতেনাতে ধরে গাছে বেঁধে জুতোর মালা, প্রস্রাব খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়

অবৈধ সম্পর্কের জেরে এক যুবককে ধরে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। প্রথমে দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে মুখে কালি মাখানো, তারপর গাছে বেঁধে চপ্পল ও জুতোর পেটায় জখম করার পাশাপাশি জোর করে প্রস্রাব পান করানোর অভিযোগ উঠেছে একদল গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার আকরাবাদ থানা এলাকার এই পৈশাচিক ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনায় চার মহিলা সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খায়ের থানা এলাকার বিলখোরা গ্রামের বাসিন্দা ওই বিবাহিত যুবকের সঙ্গে তাঁর বোনের ভাবীর (সম্পর্কীয় আত্মীয়া) অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে দুজনেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং প্রায় ১৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর গ্রামে ফিরে আসে। সেই সময় একটি পঞ্চায়েত বৈঠক বসলেও পরবর্তীতে তারা ফের যোগাযোগ রাখতে শুরু করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই যুবক তার সেই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে আকরাবাদ থানার দুভিয়া বানজারা এলাকায় বোনের শ্বশুরবাড়িতে আসে।
এরপর সেখান থেকে ফেরার পথে জঙ্গলের মধ্যে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। আর তারপরই শুরু হয় অমানবিক অত্যাচার। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা যুবকটিকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি তার দাড়ি ও গোঁফ কামিয়ে দেয় এবং মুখে কালি মাখিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, জঙ্গলের একটি গাছের সঙ্গে তাঁকে শক্ত করে বেঁধে চপ্পল ও জুতো দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয় এবং জোর করে প্রস্রাব পান করানো হয় বলে অভিযোগ।
বুধবার এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখেই তৎপর হয় পুলিশ। আকরাবাদ থানার ইনচার্জ পঙ্কজ কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে ভুক্তভোগী যুবককে শনাক্ত করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চার জন মহিলাসহ মোট সাত জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।