সিইসি বিতর্ক অতীত! নির্বাচন কমিশনের সপাট জবাবে এককাট্টা এনডিএ, চিরাগ-চন্দ্রবাবুর হুঙ্কারে কোণঠাসা বিরোধীরা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনারকে নিয়ে চলা জল্পনা ও বিতর্কের অবশেষে অবসান ঘটাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। শনিবার কমিশনের তরফে একটি স্পষ্ট ও জোরালো বিবৃতি জারি করে সমস্ত মতবিরোধের জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়। আর এই বিবৃতির পরেই কেন্দ্রের শাসকজোট এনডিএ শিবির একযোগে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে। লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) প্রধান চিরাগ পাসোয়ান এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি প্রধান এন. চন্দ্রবাবু নাইডু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে ছড়ানো সমস্ত বিভ্রান্তি ও গুজব এবার থামানো উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে শনিবার নির্বাচন কমিশন সেই সমস্ত দাবি সরাসরি নাকচ করে জানিয়ে দেয়, ২৪ জুনের এসআইআর সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ফলেই নেওয়া হয়েছিল এবং সুপ্রিম কোর্টও গত ২৭ মে সেই আদেশ বহাল রেখেছে।
কী বললেন চিরাগ পাসোয়ান?
কমিশনের এই স্পষ্টীকরণের পর এলজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “জনগণের মনে যখনই কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ জাগে, তা উত্থাপন করা এবং সঠিক উত্তর নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এসআইআর নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমিশনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। কমিশন আজ প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিষ্কার করে দিয়েছে। তিন কমিশনারের সম্মতি থেকে শুরু করে ক্যাবিনেট সচিবের সঙ্গে বৈঠক—সবকিছুই স্পষ্ট হয়েছে।” বিরোধী দলগুলির দিকে আঙুল তুলে চিরাগ আরও বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিরোধীরা কৃত্রিমভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
কড়া বার্তা চন্দ্রবাবু নাইডুর:
অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং টিডিপি supremo এন. চন্দ্রবাবু নাইডু আরও এক ধাপ এগিয়ে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা রক্ষা করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতের গণতন্ত্র বা নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর বিশ্বের যে আস্থা রয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নির্বাচনের ফলাফল সর্বদা জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটায়। একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রে নেতা হওয়ার আসল অর্থ হলো মর্যাদা ও বিনয়ের সঙ্গে জয় এবং পরাজয়—উভয়কেই মেনে নেওয়া।” সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্মান জানানো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা অটুট রাখা সমস্ত রাজনৈতিক দলের যৌথ দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই সময়োপযোগী ও কড়া বিবৃতিতে সমস্ত গুঞ্জন আপাতত ধামাচাপা পড়ে গেছে। এর ফলে বিরোধীদের তৈরি করা বয়ান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ল এবং এনডিএ জোটের শীর্ষ নেতারা একজোট হয়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতার পক্ষেই নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করল।